কেরানীগঞ্জে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৪-এর শুভাঢ্যা জোনাল অফিসে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে দুই জনকে অনিয়মের অভিযোগে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হটলাইন নম্বরে অভিযোগ পেয়ে বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ অভিযান চালানো হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রাউফুল ইসলাম ও উপ-সহকারী পরিচালক মো. সবুজ হাসানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি টিম এ অভিযানে অংশ নেয়। এসময় তারা মিটার সংযোগের জন্য অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অমল চন্দ্র দাস (৪৬) ও ইমরানকে (২৮) আটক করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল দক্ষিণের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রমথ রঞ্জন ঘটক।
অভিযান পরিচালনাকারী দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রাউফুল ইসলাম বলেছেন, ‘হটলাইনের মাধ্যমে পাওয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে আমরা অমল চন্দ্র দাস ও ইমরানকে আটক করি। পরে আটককৃতদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের প্রত্যেককে নগদ এক হাজার টাকা করে জরিমানা করে।’
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শুভাঢ্যা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মনোয়ারুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘দুদকের হাতে ধৃত অমল চন্দ্র দাস ও ইমরান বহিরাগত কোনও দালাল নয়। তারা আমাদের অফিসের তালিকাভুক্ত ইলেক্ট্রিশিয়ান । তারা গ্রাহকের ঠিকানায় বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনে ওয়্যারিংয়ের কাজ করেন। এ কাজের জন্য হয়তো বা কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করেছেন। যার ফলে দুদক টিম তাদেরকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করেছে।’
শুভাঢ্যা উত্তর পাড়া এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, দুদকের হাতে ধৃত ইমরান ছয় মাস আগে দুইটি মিটার স্থাপনের জন্য তার কাছ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা নিয়েছিল। কিন্তু মিটার না লাগিয়ে নানান অজুহাত দেখিয়ে আসছিল। আজ দুদক তাকে আটক করায় তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন। আবুল কালাম আরও বলেছেন, ‘দেশের প্রত্যেকটি সেক্টরে এভাবে অভিযান পরিচালনা করে সকল অনিয়মকারীকে আইনের আওতায় আনা হোক। তবেই দেশ থেকে ঘুষ-দুর্নীতি দূর করা সম্ভব হবে।’








