১৯৫২ সাল, রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে উত্তপ্ত ঢাকার রাজপথ। সেসময় গোপালগঞ্জেও বেশ কয়েকজন ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম এ.এম ফজলুর রহমান। তখন তিনি সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে কিশোর বয়সেই তাকে কারাভোগ করতে হয়। জীবনের শেষ মুহূর্তে এই ভাষা সৈনিকের এখন একটাই দাবি, সর্বত্র বাংলা ভাষা চালু করার।
ফজলুর রহমান ১৯৬৩ সালে সরকারি বঙ্গবন্ধু (তৎকালীন কায়েদ-ই-আযম মেমোরিয়াল) কলেজে হিসাবরক্ষক হিসেবে চাকরি করেন। ১৯৯২ সালে প্রধান হিসাবরক্ষক হিসেবে অবসরে যান তিনি ।
৮৪ বছর বয়সী এই ভাষা সৈনিক বর্তমানে গোপালগঞ্জ সদসরের পাওয়ার হাউজ রোডের বাসায় ছেলেদের সঙ্গে বসবাস করছেন। পাওয়ার হাউজ মসজিদে নামাজ আদায়, নাতি-নাতনি ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে গল্প করে সময় কাটে তার।
ফজলুর রহমান স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণের খবর গোপালগঞ্জে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে এখানকার ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে আসে। এ ঘটনার প্রতিবাদের স্কুল-কলেজে ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এসব আন্দোলনের সম্মুখ ভাগেই থাকতাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৫৪ সালে শহরের ব্যাংক পাড়ায় বঙ্গবন্ধুর বাড়ির ঐতিহাসিক আম বাগানে বাঁশ ও কাগজ দিয়ে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। এ অপরাধে ২০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টায় পুলিশ এসে আমাকে গ্রেফতার করে ফরিদপুর সেন্ট্রাল জেলে নিয়ে যায়। তিন মাস কারাভোগের পর মুক্তি পাই। এরপরও একই দাবিতে সভা-সমাবেশ ও আন্দোলন সংগ্রামে যোগ দেই।’
ভাষা সৈনিকদের অবদান চিরস্মরণীয় করে রাখতে সরকার তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মান প্রদান করবে -এমনটাই আশা করেন ফজলুর রহমান ও তার পরিবার।








