গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কালনা ফেরিঘাটে যানবাহনের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের নামে বেপরোয়া চাঁদা তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চাঁদাবাজদের হাত থেকে ভ্যান ও রিকশা চালকরাও রেহাই পাচ্ছে না। কালনা ঘাট মালিক ও কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুর রহমান চাঁদাবাজির বিষয়টি স্বীকার করে নিজেদের অপারগতার কথা জানান।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফেরি ঘাট হচ্ছে কালনা ফেরি ঘাট। এই ঘাট দিয়ে যশোর, খুলনা, বেনাপোল, নড়াইল ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলায় যানবাহন চলাচল করে। গাড়ি চালকদের অভিযোগ সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের কথা বলে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে প্রতিটি গাড়ি থেকে ২০/৩০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে নড়াইল জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন।
কালনা ফেরিঘাটে গিয়ে সরেজমিন দেখা গেছে, ফেরিঘাট এলাকায় কয়েকজন লোক বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে ২০/৩০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন। এ সময় চালকদের হাতে ‘নড়াইল জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন’ লেখা সম্বলিত ২০ টাকার একটি টোকেন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশেই বসে আছেন কয়েকজন শ্রমিক নেতা।
ট্রাক চালক মাহাবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন,‘এ পথে যাতায়াত করতে গেলে প্রতিবারই সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের জন্য শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজনকে ২০/৩০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজনের কাছে চরম নাজেহাল হতে হয়।’
চাঁদা আদায়কারী মো. তবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি দিন মজুর হিসেবে গাড়ি থেকে নড়াইল জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের টাকা কালেকশন করে দেই। এ ব্যাপারে আমি আর কিছু বলতে পারবো না।’
নড়াইল জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সাদেক খান কালনা ফেরিঘাটে চাঁদা আদায়ের কথা স্বীকার করে বলেন, ঘাটে পৌঁছানোর পর ফেরিতে উঠা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আগে উঠা নিয়ে প্রায়ই বাস-ট্রাক শ্রমিকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হতো। তাই সিরিয়াল মতো যানবাহন উঠানো হচ্ছে। এ জন্য দশ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।’
ঘাট মালিক মঞ্জুর কালনা ঘাটের পশ্চিম পাড়ে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে বলেন,‘যারা ওপার থেকে এপারে আসেন তারা চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। কিন্তু, ওপারে গিয়ে আমাদের কিছু করার নেই।
তিনি নিজের অসহায়ত্ম প্রকাশ করে বলেন,‘গরু নিয়ে আসা লোকজন এসময় ব্যাপক চাঁদাবাজির শিকার হবে। এটি বন্ধ হওয়া উচিৎ।’ এ ব্যপারে তিনি আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মুকসুদপুর সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। ওসিকে এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলবো।’
এ ব্যাপারে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুর রহমান কালনা ঘাটের পশ্চিমপাড়ে নড়াইলের লোহাগাড়া অংশে ব্যাপক চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আসলে ওপারে আমাদের কিছুই করার নাই।’
তিনি বলেন, ‘ওইপাড় আমাদের এড়িয়ার মধ্যে হলেও ওখানকার আইন-শৃংখলা রক্ষার কাজ করে নড়াইল জেলা পুলিশ। কাশিয়ানী অংশের চাঁদাবাজি আমরা অনেক আগেই বন্ধ করে দিয়েছি।’








