মুন্সীগঞ্জে সরকারি হরগঙ্গা কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রকে র্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন র্যাব কর্মকর্তারা। ফলে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে তাকে তুলে নিয়ে গেল সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তার স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে।
ওই কলেজ ছাত্রের নাম রায়হান (১৮)। সদর উপজেলার মাঠপাড়া এলাকার পিকলুস প্লাজা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এলাকাবাসী বলছেন, বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে র্যাবের চারটি গাড়ি অভিযানে অংশ নেয়।
রায়হানের পাশের ফ্ল্যাটের সরকারি হরগঙ্গা কলেজের সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র করিম জানান, সকাল ৯টার দিকে ঘুম থেকে উঠে ছোট ভাইদের ও কেয়ারটেকারের কাছ থেকে শুনেছি র্যাবের চারটি গাড়ি এসেছে। তাদের সঙ্গে হাতকড়া পরানো আরও দুই জন ছেলে ছিল। আমরা পাশের ফ্ল্যাটে ছিলাম। র্যাব চলে গেলে আমরা বের হয়ে শুনি রায়হানকে ধরে নিয়ে গেছে।
পিকলুস প্লাজার কেয়ারটেকারের স্ত্রী নাসিমা বেগম বলেন, ‘মাত্র পাঁচ দিন আগে ছেলেটি এই ফ্ল্যাটে উঠেছিল। মেসের বোরহান নামের আরেক ছাত্র তাকে নিয়ে আসে। রায়হানের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান। তার সম্পর্কে আর কিছু জানি না। সকালে র্যাব এসে তাকে ধরে নিয়ে যায়। এসময় তার কাছ থেকে কিছু বই ও দুই প্যাকেট সাদা রঙের পাউডার জব্দ করে।’
মুন্সীগঞ্জের র্যাব-১১ সিপিসি-১ এর কমান্ডার পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে কোনও অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। কে বা কারা আটক হয়েছে জানা নেই।’
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান জানান, র্যাব রায়হানকে ধরে নিয়ে গেছে এমন খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। তবে, র্যাবের কোন কোম্পানি (ইউনিট) ধরেছে, আমরা জানি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
মুন্সীগঞ্জ ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, শুনেছি র্যাব নিয়ে গেছে। কিন্তু, কোন রায়হান, কোথায় বাড়ি তা খোঁজখবর নিচ্ছি।
মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমাকে র্যাবের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। যদি র্যাবের কোনও কোম্পানি এ অভিযান করে থাকে, তাহলে কোম্পানি কমান্ডার এ বিষয়ে বলতে পারবেন।’








