আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না বলে মন্তব্য করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘সরকার জেলের মধ্যে খালেদা জিয়াকে মেরে ফেলতে চায়, এমন ইচ্ছা শেখ হাসিনার নেই। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। বেগম জিয়াকে জেলের মধ্যে মেরে ফেলবো, এমন রাজনীতি বঙ্গবন্ধু করেন নাই, শেখ হাসিনাও করেন না।’
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিবের অভিযোগের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের খালেদা জিয়ার অসুস্থতা প্রসঙ্গে বলেন, ‘বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে দলের লোকেরা বলেন একটা, আর চিকিৎসকেরা বলেন আরেকটা। চিকিৎসকেরা বলেন, তার স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে আছে। আর দলের লোকেরা তাকে অসুস্থ থেকে আরও বেশি অসুস্থ বানিয়ে ফেলেন। তারা যতটা না তার (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার জন্য ভাবছে, এর চেয়ে বেশি রাজনীতি করছে।’
খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাকে (খালেদা) প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার জন্য পরিবার থেকে বিভিন্নভাবে আবেদন করা হয়েছে। যারা এ আবেদন করেন, টেলিভিশনের পর্দায় আবেদন করেন। আমি সকালেও খবর নিয়েছি, তারা লিখিতভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্যারোলের জন্য আবেদন করেননি। এখন লিখিত আবেদন করলেও এই আবেদন কারণসহ যুক্তিসঙ্গত হতে হবে। যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্যারোল বিবেচনা করতে পারেন না, সরকার বিবেচনা করতে পারে না।’
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে কি আওয়ামী লীগ জেলে নিয়েছে? তাকে কি শেখ হাসিনা জেলে নিয়েছেন? তাকে জেলে নিয়েছেন আদালত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মামলায় তিনি বিচারাধীন আছেন। তার মামলাটি রাজনৈতিক মামলা নয়, দুর্নীতির মামলা। রাজনৈতিক মামলা হলে, সরকার তার মুক্তি নিয়ে বিবেচনা করতে পারতো। দুর্নীতির মামলায় তাকে মুক্তি দেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার আদালতের।
টুঙ্গিপাড়ার প্রতিটি পরিবারের একজন যুবক চাকরি পাবেন জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি পরিবারের একজন সদস্য চাকরি পাবেন, এটা আমাদের নেত্রীর অঙ্গীকার। ধৈর্য ধরুন, বেকার যুবকেরা তোমাদের চাকরির ব্যবস্থা হবে। টুঙ্গিপাড়ার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ গেছে, গ্যাসও আসবে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের হ্যালিপ্যাড চত্বরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, সংসদ সদস্য শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মির্জা আজম, এস.এম কামাল হোসেন, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, পৌর মেয়র শেখ আহম্মেদ হোসেন মির্জা, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার খায়ের প্রমুখ।
এরআগে, দুপুরে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী। এতে সভাপতিত্ব করেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ইলিয়াস হোসেন। পরে দ্বিতীয় অধিবেশনে আবুল বাশার খায়েরকে সভাপতি ও মো. বাবুল শেখকে সাধারণ সম্পাদক করে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং শেখ সাইফুল ইসলামকে সভাপতি ও ফোরকান বিশ্বাসকে সাধারণ সম্পাদক করে পৌর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।








