নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা তদন্তে মসজিদ কমিটির সভাপতিসহ চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তিতাসের গঠিত তদন্ত কমিটি। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর বালুরমাঠ এলাকায় তিতাসের নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের কার্যালয়ে ঘণ্টাব্যাপী তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রধান তিতাসের জেনারেল ম্যানেজার আবদুল ওয়াহাব তালুকদারের নেতৃত্বে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল গফুরসহ চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়।
বৈঠক শেষে তিতাসের তদন্ত কমিটির প্রধান জানান, মসজিদ কমিটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত, এ ব্যাপারে এখন কিছু বলতে পারছেন না। তবে মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল গফুর মেম্বার অভিযোগ করেন, তিতাস কর্তৃপক্ষ তাদের দায় এড়াতে ও নিজেদের রক্ষা করতে কৌশল অবলম্বন করছে। নির্ধারিত ১১টি প্রশ্ন সম্বলিত ফরমে মসজিদ কমিটির চার জনের লিখিত নিয়েছেন তারা। ওই ফর্মে একটি ঘরে লেখা রয়েছে, আপনি তিতাস গ্যাসের ত্রুটি সম্পর্কে তিতাস কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত কোনও অভিযোগ করেছেন কি?। এ সময় গফুর মেম্বর বলেন, ‘তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছে আমি অভিযোগ করিনি, তবে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান অভিযোগ দিয়েছিলেন। এ সময় তদন্ত দলের কর্মকর্তারা তাকে বলেন, ‘সাধারণ সম্পাদক যেটি দিয়েছেন সেটি সাধারণ সম্পাদকের বিষয়। আপনি দিয়েছেন কিনা তা উল্লেখ করুন। যদি অভিযোগ না দিয়ে থাকেন তাহলে ঘরে না লিখুন।’
মসজিদ কমিটির সভাপতি বলেন, ‘তদন্ত দলের এমন আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, যেন তারা নিজেদের রক্ষা করার জন্যই এই ফরমটি তৈরি করে আমার কাছ থেকে কৌশলে লিখিত নিলেন।’
এদিকে, বিস্ফোরণের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি দ্বিতীয় দিনের গণশুনানিতে ফায়ার সার্ভিস ও তিতাসের কর্মকর্তাসহ ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে এই গণশুনানি শেষে তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
তদন্ত কমিটি জানায়, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ, মসজিদ নির্মাণে ত্রুটি-বিচ্যুতি, মসজিদের সরঞ্জামাদি রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা, গ্যাস কর্মকর্তাদের গাফিলতি, বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের গাফিলতিসহ সব বিষয়কে সামনে রেখে কমিটি তদন্ত করে যাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী, সাধারণ মানুষ, মুসল্লি, ঘটনার সময় উদ্ধারকারী লোকজন, ফায়ার সার্ভিস, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষসহ সবার কাছ থেকেই সাক্ষ্যগ্রহণ করা হচ্ছে। সাক্ষ্যগ্রহণের পর নির্ধারিত সময় ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করা হবে।
এর আগে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গণশুনানির প্রথম দিনে ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে জেলা প্রশাসনের এই তদন্ত কমিটি।







