দেশে উন্নত পাট উৎপাদনে বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা সেরা। এই অঞ্চলের পাটের সুনাম দেশব্যাপী। এক সময় বৃহত্তর ফরিদপুরের অর্ন্তভুক্ত ছিল গোপালগঞ্জ। তাতেই বোঝা যায় উন্নত পাট উৎপাদনে গোপালগঞ্জও এগিয়ে আছে আগে থেকেই।
জেলার প্রধান ফসল হলো ধান ও পাট। এ বছর জেলায় ৫ লাখ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানায় কৃষি অফিস সূত্র।
মুকসুদপুরের কৃষক আব্বাস আলি, সদরের কৃষক আকবর হোসেন এ বছর পাট চাষ করে বেশ খুশি। এবার তারা পাটের যে দাম পাচ্ছেন তা বিগত বছরের থেকে অনেক বেশি। তারা জানান, এ বছর প্রকারভেদে ২০০০ থেকে ২৮০০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি করছেন। তাতে উৎপাদন খরচ উঠে লাভের মুখ দেখছেন। আগামীতেও পাটের আবাদ করবেন বলে জানান তারা। এই কৃষকেরা জানান, আগের বছরগুলোতে পাটের দাম কম পাওয়ায় এর আবাদ প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার যারা আবাদ করেননি তারা আফসোস করছেন। আগামীতেও এই জেলার কৃষকরা পাটের ভালো দাম পাবেন বলে প্রত্যাশা তাদের। এবার যারা পাটের আবাদ করেননি তারা আগামীতে আবারও এ দিকে ঝুঁকবেন বলে মনে করছেন অনেক কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। চাষাবাদ হয় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ মেট্রিক টন।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ফড়িয়া পাট ব্যবসায়ী শান্ত সিকদার জানান, এ বছর পাটের দাম বেশ চড়া। প্রকারভেদে ২০০০ থেকে ২৬৫০ টাকা দরে পাট কিনছেন তিনি। কয়েক মাস পর এসব পাট মিলারদের কাছে আরও বেশি দামে বিক্রি করবেন।
তিনি জানান, জেলার মুকসুদপুর উপজেলার পাট তুলনামূলক বেশি উন্নত হওয়ায় সেখানে ২৮০০ টাকা পর্যন্ত পাটের দাম উঠেছে। সব মিলিয়ে এবার কৃষকেরা পাটের দাম ভালো পাচ্ছেন। এ দামে হাসি ফুটেছে তাদের মুখে। ফলে আগামীতে তারা আরও বেশি করে পাট আবাদ করবেন।
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. অরবিন্দু কুমার রায় জানান, এ জেলার পাট উন্নত মানের। কৃষকরা এ বছর পাটের দামও পাচ্ছেন ভালো। ফলে আগামীতে তারা পাট উৎপাদনে আরও বেশি উৎসাহী হবেন।








