করোনার আতঙ্ক কমলেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
১০ অক্টোবর ২০২০, ১০:৩১আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২০, ১০:৩১

কমেছে করোনার আতঙ্ক শরীয়তপুরে করোনা নিয়ে সতর্কতা নেই বললেই চলে। রাস্তাঘাট ও কর্মস্থলে কেউ কেউ মাস্ক ব্যবহার করলেও অধিকাংশ মানুষই মাস্ক ছাড়া চলাফেরা করছেন। সামাজিক দূরত্ব মানছেন না কেউ।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। প্রতিদিন সাড়ে ৩০০-৪০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসছেন। প্রতিটি ডাক্তারের রুমের সামনেই রোগীরা একজনের সঙ্গে আরেকজন গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। চিকিৎসকরা শুধু মাস্ক ব্যবহার করেই রোগী দেখছেন।

সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রাম থেকে আসা সুফিয়া বেগম বলেন, ‘আগে ডাক্তাররা জ্বর-ঠান্ডা হলে রোগী দেখতে চাইতেন না। দূর থেকে রোগী দেখতেন। এখন সব ঠিক হয়ে গেছে। ডাক্তাররা আগের মতোই রোগী দেখছেন।’

করোনার আতঙ্ক কমলেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন,  ‘প্রথম দিকে পিপিই-মাস্কের সংকট থাকলেও এখন নেই। এখন অধিকাংশ নার্স ও স্টাফরাই পিপিই পরেন না। শুধু মাস্ক ব্যবহার করেন। শুধু যারা করোনা ওয়ার্ডে ডিউটি করেন তারা পিপিইসহ সব ধরনের সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করেন।’

শুধু মাস্ক পরে রোগী দেখার বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, ‘হাসপাতালের অধিকাংশ চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরাই ইতিমধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। কারও লক্ষণ দেখা দিয়েছে, কারও ছিল না। সবাই বর্তমানে সুস্থ আছেন। এই কারণে হাসপাতালে দায়িত্বরতদের মধ্যে করোনা নিয়ে আগের মতো আতঙ্ক নেই। পর্যাপ্ত পিপিই থাকলেও গরমের কারণে এগুলো পরা হচ্ছে না।’

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৮ হাজার ৩৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১ হাজার ৭২০ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে। করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ১ হাজার ৬৪৮ জন সুস্থ হয়েছেন এবং ২৩ জন মারা গেছেন। বর্তমানে কোভিড-১৯ পজেটিভ রোগীর সংখ্যা ৪৯ জন। এরা সবাই নিজ বাড়িতে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।

করোনার আতঙ্ক কমলেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

জেলা সিভিল সার্জন এসএম আবদুল্লাহ মুরাদ বলেন, করোনা ঝুঁকি থাকলেও চিকিৎসক ও নার্সরা সতর্কতার সঙ্গে সব রোগীদের স্বাভাবিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

জেলা সদরের বিভিন্ন রাস্তা, বাজার ও অফিস ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষের মধ্যেই করোনা আতঙ্ক নেই। করোনার শুরুর দিকে প্রতিটি ব্যাংক স্বল্প সময়ের জন্য খোলা রাখাসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ থাকলেও এখন তার কিছুই নেই। ব্যাংকে ঢোকার সময় দু-একটি ব্যাংকে হ্যান্ড স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা রাখলেও সব ব্যাংকে সেই ব্যবস্থাও নেই।

অনেক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাস্ক ছাড়াই ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছেন। সোনালী ব্যাংক শরীয়তপুর শাখার ব্যবস্থাপক কামরুল হাসান বলেন, ‘ব্যাংকের অধিকাংশ স্টাফই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে আল্লাহর রহমতে কোনও সমস্যা ছাড়াই সবাই সুস্থ হয়ে গেছেন। বর্তমানে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা সেবা প্রদান করে যাচ্ছি।’

করোনার আতঙ্ক কমলেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, রাস্তাঘাটে অনেকেই মাস্ক ছাড়া চলাচল করেন। স্বাস্থ্যবিধি মানেন না। এজন্য নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তাদেরকে সতর্ক করার পাশাপাশি জরিমানাও করা হয়।

 

/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে