দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এস এম ওয়াজেদ আলী খোকন। এর পরপরই ভারপ্রাপ্ত পিপি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান বুলবুল। বুধবার (১০ মার্চ) দুপুরে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এর আগে মঙ্গলবার বিকালে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন খোকন।
মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এস এম ওয়াজেদ আলী খোকনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পুরনো। তবে বিষয়টি এর আগে কখনও মামলা বা তদন্ত পর্যায়ে যায়নি। তবে এবার তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় খোকন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করে দুদক এর সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১। এ ঘটনার পর ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার মুখে তিনি। এর পরপরই তার পিপি পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অবশেষে মামলা দায়েরের দুই সপ্তাহ পরে মঙ্গলবার বিকালে এ দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
ওয়াজেদ আলী খোকন ২০১৫ সাল থেকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপির দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময়কালে চাঞ্চল্যকর ৭ খুন মামলাসহ, ৫ খুন, স্বর্ণব্যবসায়ী, শিশু হত্যা, নারীহত্যাসহ অনেক মামলায় সাফল্যও আছে তার।
উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট খোকন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এ মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম। এ বিষয়ে দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, মামলায় ওয়াজেদ আলী খোকন ও তার স্ত্রী সেলিনা ওয়াজেদ মিনুর বিরুদ্ধে প্রায় দুই কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ওয়াজেদ আলী দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে তার নিজ নামে ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে মোট ৮৫ লাখ ৩২ হাজার ৩৭৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্যের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে গোপনকৃত সম্পদসহ মোট ৯৯ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।
সেলিনা ওয়াজেদ মিনুর বিরুদ্ধে ২৭ লাখ ৩৯ হাজার ১৬১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনসহ মোট এক কোটি এক লাখ ৫৬ হাজার ১৭৪ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সাবেক পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, দুদকের মামলা দায়ের পর অভিভাবক আত্মীয়-স্বজন আমাকে উপদেশ দিলো তদন্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) পদ থেকে অবসর নেওয়ার জন্য। তাই ব্যক্তিগত কারণে পিপির পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। তিনি দাবি করেন, দুদকের মামলায় থেকে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।
ভারপ্রাপ্ত পিপি মনিরুজ্জামান বুলবুল বলেন, রাষ্ট্রের আইনি দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবো।








