গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তায় পদ্মা হেল্থ কেয়ার ডায়াগনস্টিক হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারে রোগীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১৯ মার্চ) সকালে চার বছরের শিশু সন্তান ও স্ত্রীর সামনেই তাকে মারা হয়।
আহত রোগী আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার (৩৮) ঝালকাঠি জেলা সদরের রমানাথপুর গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফ তালুকদারের ছেলে। তিনি শ্রীপুরের মীর সিরামিক্স লিমিটেডের কর্মী।
আহতের স্ত্রী রুবিয়া আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী কুদ্দুস তালুকদারের বাম পায়ে লোহার খণ্ড ঢুকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই হাসপাতালের অভ্যর্থনা শাখায় তিনি চিকিৎসার পরামর্শ নেন। এ সময় হাসপাতালের অভ্যর্থনা কর্মীরা সাতশ’ টাকা ভিজিট নেন। কিন্তু পরে লোহার খণ্ড বের করার যন্ত্র হাসপাতালটিতে নেই জানিয়ে চিকিৎসক তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরার্মশ দেন।
রুবিয়া আক্তার জানান, অভ্যর্থনা শাখায় দেওয়া ভিজিটের সাতশ’ টাকা ফেরত চাওয়া হলে কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। বার বার ভিজিট দাবি করার একপর্যায়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপক তুহিন আহমেদ এসে রোগীকে কিল, ঘুষি, লাথি মারতে থাকেন। তার সঙ্গে হাসপাতালের কর্মীসহ কমপক্ষে ১২ জন রোগীকে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে ঠোঁট-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করেন। এ সময় তিনি (স্ত্রী) ও রোগীর চার বছরের সন্তান রাহাত হোসেন কান্না শুরু করেন। তাদের কান্নাকাটি শুনে আশপাশের লোকজন এলে মারধর থামান তারা।
শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমজাদ হোসেন জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তিনি হাসপাতালে যান। সেখানে গিয়ে অভিযুক্তদের কাউকে পাওয়া যায়নি। রোগীকে চিকিৎসা শেষ করে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তারা দুপুর ১টার দিকে চিকিৎসা নিতে রাজধানীর মিরপুরের ডেলটা হেল্থ কেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে বের হয়ে গেছেন।
এ ব্যাপারে পদ্মা হেল্থ কেয়ার ডায়াগনস্টিক হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারের অভ্যর্থনা বুথের কর্মী হাসিব জানান, পায়ে গেঁথে যাওয়া লোহার খণ্ড অপারেশন করার জন্য একটি বিশেষ যন্ত্র রয়েছে, যা এখানে নেই। তাছাড়া তিনি ঘটনার সময় সেখানে ছিলেন না।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপক অভিযুক্ত তুহিন আহমেদ বলেন, ‘রোগী নিজেও অনেক খারাপ আচরণ করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর ভিজিট ফেরত না দিলে আমাদের কিছু করার নেই। তাছাড়া রোগীর অসুস্থতার ব্যাপারে চিকিৎসক তাঁর পরামর্শ দিয়েছেন। কথাবার্তার এক ফাঁকে রোগীর গায়ে অপ্রত্যাশিতভাবে আঘাত লেগে গেছে।








