পাঁচ বছরেও দেশ কাঁপানো নৃংশস জঙ্গি হামলার ঘটনা ভুলতে পারেনি কিশোরগঞ্জবাসী। আজও কানে ভেসে আসে গুলি আর বোমার শব্দ। আশপাশের বাড়ি ঘরের দেয়ালগুলোতে এখনও সেই ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে। এভাবেই সেই দিনের ভয়ংকর স্মৃতির বর্ণনা দিচ্ছিলেন শোলাকিয়া এলাকার বাসিন্দারা।
২০১৬ সালের ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের মাটিতে ঘটে যায় বর্বরোচিত জঙ্গি হামলার ঘটনা। ঈদুল ফিতরের সকাল পৌনে ৯টার দিকে শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে আজিমউদ্দিন হাইস্কুল সংলগ্ন রাস্তায় মুফতি মুহাম্মদ আলী মসজিদের কাছে পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে অতর্কিত হামলা চালায় অস্ত্রধারী জঙ্গিরা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে জঙ্গিদের সঙ্গে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধ হয়।
এসময় জঙ্গিরা জবাই করে হত্যা করে পুলিশের দুই কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম ও আনসারুল হককে। আহত হয় পুলিশের অন্তত ৮ সদস্য। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ঘটনাস্থলে নিহত হয় আবির রহমান নামে এক হামলাকারী। আহত অবস্থায় আটক করা হয় শফিউল ইসলাম ডন নামে এক জঙ্গি সদস্যকে। ঘটনার সময় নিজের ঘরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন গৃহবধূ ঝর্ণা ভৌমিক।
সে ভয়ানক দিনের কথা মনে পড়লে আজও শিউরে উঠেন সবাই। স্বজন হারানোর দুঃসহ স্মৃতি আর দেশ কাঁপানো বীভৎস ঘটনা আজও তাড়িয়ে বেড়ায় এ এলাকার মানুষদের। তাই আসামিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন কিশোরগঞ্জবাসী।
এদিকে এ ঘটনায় নিহত দুই পুলিশ সদস্যের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে সরকার। অন্যদিকে নিহত গৃহবধূ ঝর্ণা ভৌমিকের সন্তানকেও ব্যাংকে চাকরি দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।
কিশোরগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহ আজিজুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এ মামলার আসামিদের ১৯ জন ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন সময় বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। অবশিষ্ট পাঁচ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশিট দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, করোনার কারণে মামলাটির কার্যক্রম ধীরগতির হয়ে আছে। তবে করোনাকাল থেকে বেরিয়ে আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে সরকারের পক্ষ থেকে এ মামলার আসামিদের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। তার ভিত্তিতে বর্তমানে পাঁচ আসামি কারাগারে আছে। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকার হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার সম্পৃক্ততাও পাওয়া গিয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। যেহেতু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর মামলা, তাই আমরা সেটিকে খুব গুরুত্বের সঙ্গেই পর্যবেক্ষণ করছি। এ মামলায় প্রত্যক আসামির যেন সর্বোচ্চ বিচার হয়, সেটিই আমরা প্রত্যাশা করছি।









