গাজীপুরের শ্রীপুরে যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনে মর্জিনা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার স্বামীকে টঙ্গী থেকে এবং শাশুড়িকে শ্রীপুর থেকে আটক করেছে র্যাব-১।
মঙ্গলবার (৬ জুলাই) টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মর্জিনা কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার উত্তরটিলি এলাকার মানিক মিয়ার মেয়ে। তার চার মাস বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।
মর্জিনার বাবা মানিক মিয়া বলেন, প্রায় আড়াই বছর আগে শ্রীপুরের গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পটকা গ্রামের রুবেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে মর্জিনার পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রুবেল ও তার মা যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই মর্জিনাকে নির্যাতন করতেন। সোমবার (৫ জুলাই) দুপুরে মর্জিনা ফোন করে জানান, স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতন সইতে না পেরে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন। এটাই তার শেষ কথা ছিল। এর চার ঘণ্টা পর হাসপাতাল থেকে ফোনে মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পান মানিক মিয়া।
তিনি আরও বলেন, গত ২ জুলাই মর্জিনা ফোন করে তার বাবাকে জানান, শ্বশুরবাড়ির ঘর মেরামতের জন্য টাকা দরকার। টাকা পাঠাতে দেরি হওয়ায় রুবেল ও তার মা মর্জিনাকে নির্যাতন করেন। বিভিন্ন অজুহাতে প্রায়ই টাকা চাইতেন তারা। টাকা না দিলেই মর্জিনাকে নির্যাতন হতো।
শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত নার্সিং ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সোমবার (৫ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে অজ্ঞাত এক রিকশাচালক মর্জিনাকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এর কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়। নিহতের ব্যাগ থেকে চালের পোকা নিধনের কীটনাশক পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কীটনাশক খেয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাসুদ বলেন, মর্জিনা আক্তারের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
শ্রীপুর থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুনুর রশীদ জানান, কীটনাশক পানে গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তার মৃত্যু টঙ্গী থানা এলাকায় হওয়ায়, ওই থানা ব্যবস্থা নিয়ে আমাদেরকে কাগজপত্র দেবে। আমরা এখনও এ সংক্রান্ত কোনো ডকুমেন্ট পাইনি।









