স্প্লিন্টারের যন্ত্রণায় সেই ভয়াবহ স্মৃতি ভুলতে পারেন না নাজিম

বিজয় রায় খোকা, কিশোরগঞ্জ
২১ আগস্ট ২০২১, ১৩:২২আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২১, ২০:০৬

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দিন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় আইভি রহমানের ডাকে ভৈরব থেকে অনেকের সঙ্গে উপস্থিত হয়েছিলেন আকবরনগর গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে নাজিম উদ্দিন। সেদিন গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি। এখনও তার শরীরে অজস্র স্প্লিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছেন। ভুলতে চাইলেও স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা বারবারই তাকে সেই দিনের  বীভৎসতার কথা মনে করিয়ে দেয়।

বাংলা ট্রিবিউনকে নাজিম উদ্দিন ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, ‘আইভি রহমান ভৈরবের গর্ব। তার ডাকে ভৈরববাসী সব সময় একত্র হতো। তার নির্দেশে আমরা অনেকেই সেদিন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে উপস্থিত হয়েছিলাম। মঞ্চের নিচে আইভি রহমানসহ অনেক নেতাকর্মী বসেছিলেন। আমি এক বোতল পানি এনে আপাকে দিলাম। পাশে দাঁড়িয়ে আপার সঙ্গে কথা বলছিলাম। বক্তব‌্যর শেষ পর্যায়ে মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বললেন, এখন র‌্যালি হবে। ট্রাকের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা অপেক্ষা করছি। সে সময়ই হঠাৎ একটি বিকট আওয়াজ শুনলাম। তখনই দেখলাম আইভী আপা হেলে পড়ে যাচ্ছেন, আমি লাফ দিয়ে তাকে ধরতে গেলাম। আবার বিকট শব্দ হলো। তারপর আমিও অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলাম। পরে যখন জ্ঞান ফিরলো আমি দেখি, কয়েকটি লাশের সঙ্গে আমি পড়ে আছি।’

কে বা কারা নাজিম উদ্দিনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যান কিছুই জানেন না তিনি। অবস্থা খারাপ দেখে পরে তাকে রেনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নয় দিন দেশে চিকিৎসা শেষে শেখ হাসিনার উদ‌্যেগে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন‌্য ভারতের পিয়ারল‌্যাস হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তিন মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন তিনি।

নাজিমের শরীরে এখনও শতাধিক স্প্লিন্টার রয়েছে। এতগুলো স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা শরীরে নিয়ে এখন আর কাজ করতে পারেন না তিনি। প্রায়ই যন্ত্রণা বাড়ে। শীতে তা চরম পর্যায়ে চলে যায়। প্রতি মাসে প্রায় নয় হাজার টাকার ওষুধ খেতে হয় তাকে। বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে মাসে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয় নাজিম উদ্দিনকে।

ভারত আসার সময় সেখানকার চিকিৎসকরা বলেছিলেন, কিছুদিন পর আবার সেখানে গিয়ে চিকিৎসা করাতে। আর্থিক সামর্থ‌্য না থাকায় আর যাওয়া হয়নি সেখানে। বর্তমানে কিডনিরও সমস‌্যা দেখা দিয়েছে তার। স্ত্রীসহ পরিবারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে ঢাকার মীরপুরে খুব কষ্টে বসবাস করছেন তিনি।

সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘এ হামলায় যারা জড়িত তাদের বিচার না করলে আমরা শান্তি পাবো না। আমার চিকিৎসার দরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন, আমাকে উন্নত চিকিৎসার ব‌্যবস্থা করে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিন। সারা শরীরে অজস্র স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা সহ‌্য করা খুব কঠিন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব সময় আমাদের খোঁজ খবর রাখেন। ওষুধের জন‌্য প্রতি মাসে আমাকে পাঁচ হাজার করে টাকা করে দেন। এই টাকাটা না পেলে এতদিন আমার বেঁচে থাকাই কঠিন হতো।’

/এমএএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম