২২ বছর ধরে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস, পাননি উপহারের ঘর

এনায়েত করিম বিজয়, টাঙ্গাইল 
০৪ নভেম্বর ২০২১, ২১:৩৫আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২১, ২১:৪৪

ভূমিহীনদের ঘর উপহার দিয়েছে সরকার। ভেবেছিলাম আমিও পাবো। তালিকায়ও নাম ছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত পেলাম না। ঝুপড়ি ঘরেই থাকতে হচ্ছে। কথাগুলো বলেছেন টাঙ্গাইল সদরের গালা ইউনিয়নের ভাটচান্দা গ্রামের আব্দুস ছালামের স্ত্রী রাহানা বেগম। তিনি ওই গ্রামের মৃত হাতেম আলীর বাড়িতে ২২ বছর ধরে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন।  

রাহানা বেগম বলেন, ‘কে দেবো ঘর। ঘরের আশায় মেম্বার-চেয়ারম্যানের পেছনে প্রায় এক বছর ঘুরেছি। কোনও লাভ হয়নি। ঘর দেওয়ার আশ্বাসে প্রতিবেশী লুৎফর পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেছিল। চার হাজার টাকা দিয়েছিলাম। তবু ঘর ভাগ্যে জোটেনি। ভেবেছিলাম মৃত্যুর আগে ভালো ঘরে বসবাস করতে পারবো। কিন্তু জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরই আমার ভরসা।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২২ বছর আগে গোপালপুর উপজেলা থেকে সদরের ভাটচান্দা গ্রামে বৈশাখী মেলায় খেলনা বিক্রি করতে আসেন ছালাম ও তার স্ত্রী রাহানা বেগম। বসতভিটা না থাকায় মেলা শেষে ওই সময় তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় আশ্রয় নেন। এ অবস্থা দেখে গ্রামের হাতেম আলী ছালাম দম্পতিকে বাড়িতে আশ্রয় দেন। ছালাম বিভিন্ন গ্রামে ফেরি করে খেলনা বিক্রি করেন। যে টাকা আয় করেন তা দিয়ে সংসার খরচই হয় না। ঘর তৈরির সামর্থ্য নেই। করোনাকালে তারা মানবেতর জীবনযাপন করেছেন। আশপাশের লোকজন খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। তাদের এক ছেলে বিয়ে করে কয়েক মাস আগে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

মৃত হাতেম আলীর স্ত্রী জায়দা বেগম বলেন, ‘সরকারি ঘর পাওয়ার আশায় ছালাম ও তার স্ত্রী কয়েকবার মেম্বার-চেয়ারম্যানের কাছে গেছেন। যারা ঘরের তালিকা করেছে তারা যদি সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করতো, তাহলে রাহানা ঘর পেতেন। ঘরের তালিকার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের অবহেলার কারণে রাহানা ঘর পাননি। ঘর দেবে বলে প্রতিবেশী লুৎফর টাকাও নিয়েছিল। কিন্তু টাকা কম দেওয়ায় ঘর পাইয়ে দেয়নি।’

মৃত হাতেম আলীর বাড়িতে ২২ বছর ধরে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন রাহানা

স্থানীয় ইউপি সদস্য সোরমান মিয়া বলেন, ‘ঘরের তালিকা আমাদের কাছ থেকে নেয়নি। ঘর বরাদ্দে নিয়োজিত কর্মীরা তালিকা করেছেন। যে কারণে রাহানার মতো আরও অনেকে বাদ পড়েছেন। বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত তহবিল থেকে রাহানাকে সহযোগিতা করা হয়। রাহানা ঘর পাওয়ার যোগ্য।’

গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজ কুমার বলেন, ‘রাহানা বেগম আমার কাছে এসেছিলেন। তার ও আরও ৮-১০ জনের নাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমাদের তালিকা ইউএনও অফিস থেকে গ্রহণ করেনি। তালিকাগুলো হয়েছে আগের ইউএনওর সময়ে। আমার কাছে সুযোগ থাকলে রাহানা বেগম ঘর পেতেন। তারপরও বিষয়টি দেখবো।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুন বলেন, ‘চেয়ারম্যানের তালিকা অনুযায়ী গালা ইউনিয়নে দুই ধাপে মুজিববর্ষের ৫৪টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। রাহানা বেগমের তথ্য যাচাই-বাছাই করে ঘর দেওয়া হবে।’

 

/এএম/
সম্পর্কিত
ঢাকায় সিএনজি চালকের হতাশা‘সংসার তো এখন আল্লাহই চালায় মামা’
ক্যানসার আক্রান্ত হেফাজত নেতা ফারুকীর পাশে তারেক রহমান
কষ্টে আছেন গণ-অভ্যুত্থানে গুলিতে পঙ্গু হয়ে যাওয়া পারভেজ
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম