শরীয়তপুর সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের দলের বিরুদ্ধে অবস্থান, পুলিশ প্রশাসনের বিরূপ আচরণ ও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের পরাজিত পাঁচ চেয়ারম্যান প্রার্থী। শনিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আংগারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আসমা আক্তার, ডোমসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজান মোহাম্মদ খান, পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবুল হোসেন দেওয়ান, শৌলপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আলমগীর হোসেন খান ও মাহমুদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি লিয়াকত হোসেন হান্নান তালুকদার।
সংবাদ সম্মেলনে আসমা আক্তার বলেন, আংগারিয়া ইউনিয়নে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুর রব মুন্সী ও তার ছেলে পাভেল মুন্সীসহ দলীয় লোকজন নৌকার বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের পক্ষে কাজ করেছেন। এ জন্য আমি নির্বাচনে হেরেছি।
মিজান মোহাম্মদ খান বলেন, পৌরসভার মেয়র পারভেজ রহমান জন ও সাবেক মেয়র কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, তার ভাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম কোতোয়াল নৌকার বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী মাস্টার মজিবুর রহমান খানের আনারস প্রতীকের পক্ষে কাজ করেন। এ জন্য ভোটাররা বিভক্ত হয়েছেন।
মো. আলমগীর হোসেন খান বলেন, শৌলপাড়া ইউনিয়নে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল আলিম নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী এসকান্দারের ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, কেন্দ্র থেকে আমরা নৌকা প্রতীক পেয়েছি। ১১ নভেম্বর ইউপিগুলোতে নির্বাচন হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে নির্বাচনে পুলিশ প্রশাসন নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয় ও নৌকার ব্যাচ পরা দেখলেই ধাওয়া দেয়। পুলিশ প্রশাসন নৌকার বিপক্ষে কাজ করেছে। বিদ্রোহী প্রার্থী ও পুলিশের লোকেরা আমাদের লোক আটকে রেখে ভোট কারচুপি করেছে। এ ছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজন নৌকার ক্লাব ভাঙচুর, আমাদের সমর্থকদের মারধর করেছে। বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজন প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরছেন। আমরা থানায় গেলে মামলা নিচ্ছে না পুলিশ। কাজেই আমরা এই নির্বাচনের ফলাফল মানি না। এখানে পুনরায় নির্বাচন চাই আমরা।
পৌরসভার সাবেক মেয়র রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল বলেন, আমি নৌকার পক্ষে ভোট চেয়েছি। সভা-সমাবেশ করে জনগণকে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান করেছি। তারপরও কেউ যদি বলে আমি বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি, তা বানোয়াট। এমন অভিযোগ করলে প্রমাণ দিতে হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুর রব মুন্সী বলেন, নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে আংগারিয়া ও তুলাসারসহ কয়েকটি ইউনিয়নে সভা-সমাবেশ করেছি। এরপরও যদি আমার বিপক্ষে কেউ অভিযোগ করেন, তা দুঃখজনক। তবে কিছু নেতাকর্মী অযোগ্য লোকদের চেয়ারম্যান বানানোর জন্য মাঠে নেমেছিল। জনগণ তাদের ভোট দেননি।
শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র পারভেজ রহমান জন বলেন, আমি নৌকার লোক। নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছি।
এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল আলিম বলেন, আমার বাড়ি জাজিরাতে। আমি নৌকার লোক। শৌলপাড়ার এসকান্দার আমার আত্মীয় হন। নৌকার পক্ষে ছিলাম, থাকবো। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন আলমগীর হোসেন।
পালং মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আক্তার হোসেন বলেন, ওসব প্রার্থী যেসব অভিযোগ এনেছেন, এগুলোর সত্যতা নেই। আমরা তাদের মামলা নিয়েছি। তারা কোনও অভিযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।









