মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে ইয়াবা উদ্ধার, মালিকসহ আটক ৫

গাজীপুর প্রতিনিধি
০৫ জানুয়ারি ২০২২, ০১:৩৫আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২২, ০১:৩৫

গাজীপুরের একটি মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে সুস্থ মানুষকে আটকে রেখে নির্যাতন এমনকি যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বিকালে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা মহানগরীর ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সেখান থেকে ৪২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অতিরিক্ত রোগী রাখাসহ নানা অনিয়ম দেখতে পান র‌্যাব সদস্যরা।

অভিযান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কেন্দ্রে যারা চিকিৎসা নিতে এসেছেন তাদেরকে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন এবং যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঝুলিয়ে নির্যাতনেরও প্রমাণ মিলেছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে আসায় আমরা অনেক তথ্য পেয়েছি। নিরাময়ের জন্য মাদক নিরাময় অধিদফতর কর্তৃক যে ক্রাইটেরিয়া দেওয়া আছে সেগুলো এখানে অনুপস্থিত। সেবাগ্রহীতাদের দেওয়া খাবারের মান অত্যন্ত খারাপ ছিল। সব সময় চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও তা ছিল না। এ রকম বেশ কিছু অনিয়ম পাওয়া গেছে।

পুনর্বাসন কেন্দ্রটির মালিকসহ যে পাঁচ জন কর্মচারী রয়েছেন তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। নিরাময় কেন্দ্রটিতে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম ছিল। যখন এটি চালু করা হয়েছিল তখন এটির অনুমোদন ছিল না। মাদক নিরাময় অধিদফতর কর্তৃক কেন্দ্রটি যখনই পর্যবেক্ষণ করা হয় তখনই কেবল প্রয়োজনীয় জিনিস দেখানো হতো। পরে সেগুলো তাদের ইচ্ছামতো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। যে পরিমাণ বেড থাকার কথা তা নেই। তুলনামূলক বেশি রোগী রাখা হয়েছে। ভালো বাসস্থান নেই।

তিনি বলেন, এটা একটা মাদক নিরাময় কেন্দ্র হলেও মালিকসহ যারা পরিচালনা করছেন তাদের সবাইকে প্রাথমিকভাবে মাদকাসক্ত হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। অভিযানের সময় ৪২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ২০ জনের জায়গায় ২৮ জনকে চিকিৎসাধীন পাওয়া গেছে।

২০০৯ সাল থেকে কেন্দ্রটি পরিচালনা করা হচ্ছে। একজন রোগী পাওয়া গেছে যিনি তিন বছর যাবত এখানে রয়েছেন। মাদকাসক্ত নয় এমন সুস্থ ব্যাক্তিদেরও জোর করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন সময় মারধরও করা হয়েছে। যাদের শরীরে জখমের দাগ পাওয়া গেছে এমন সাতজনকে পরীক্ষার জন্য চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সেবাগ্রহীতা যারা তাদের এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলতে চেয়েছে তাদেরকে পালিত সন্ত্রাসী দিয়ে বেঁধে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ট্রিটমেন্টের প্যাটার্ন অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়নি। এখানে সেবাগ্রহীতাদের স্বজনরাও রয়েছেন। ভালো ট্রিটমেন্টের জন্য সেবাগ্রহীতাদের অনেককেই তারা নিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, ২৮ দিন পর একজন সেবাগ্রহীতার রেজাল্ট দিতে হয়। তাছাড়া তিন মাস পর পরও রেজাল্ট দিতে হয়, সেগুলো আমরা অনুপস্থিত পেয়েছি। সার্বক্ষণিক কোনও ডাক্তার এখানে ছিল না।

খন্দকার আল মঈন বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। রোগীদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের স্বজনদের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকার একজন অভিনেতা মাদকাসক্ত নয়। তাকেও এখানে পাওয়া গেছে। তাকে মেডিক্যাল টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। কেন তাকে আটকে রাখা হয়েছিল সে ব্যাপারেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

অভিযানে মাদক নিরাময় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারাও যুক্ত ছিলেন।

/এমপি/
সম্পর্কিত
মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান শুরু
এ যেন ‘গাঁজার সিলিন্ডার’
মাদকসহ গ্রেফতার বিএনপি নেতাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার
সর্বশেষ খবর
বিদুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
বিদুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি