আলোচিত সাত খুন মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেন গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর কনডেম সেলে বসে মোবাইল ফোন চালাতেন। বুধবার (৫ জানুয়ারি) ফোনটি উদ্ধার করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
নূর হোসেনের কাছে মোবাইল ফোন কীভাবে এলো—এই ঘটনা তদন্তে বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) কারাগারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক উম্মে সালমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
শনিবার (৮ জানুয়ারি) কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জেল সুপার আব্দুল জলিল বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গোপন সংবাদে জানা যায়, নূর হোসেন কনডেম সেলে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। পরে সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গত বুধবার কনডেম সেলে অভিযান চালায় কারা কর্তৃপক্ষ। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মিনি বাটন মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
কারাগার পার্ট-২ এর কনডেম সেলে নূর হোসেনসহ তিন জন রয়েছে। মোবাইল ফোন ব্যবহারের অপরাধে তার বিরুদ্ধে কারাবিধি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কারাগারের ভেতর কীভাবে মোবাইল ফোন আনা হয়েছে, সে বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান আব্দুল জলিল।
আগামী ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন। ওই নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে লড়ছেন নূর হোসেনের ছোট ভাই নূর উদ্দিন এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ভাতিজা শাহ জালাল বাদল।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাত জনকে অপহরণের তিন দিন পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় নজরুল ইসলামসহ চার জন হত্যায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে একই থানায় আরেকটি মামলা করেন।
নারায়ণগঞ্জের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর বহুল আলোচিত সাত খুনের মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।








