বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনে কিশোরগঞ্জ শহরে পাঁচ টাকার খাজনা ১০০ আদায় করার প্রতিবাদে মাছ বিক্রি বন্ধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে শহরের বড়বাজার মাছ মহালে ব্যবসায়ীরা এ প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। তারা এ সময় ইজারাদারদের অতিরিক্ত খাজনা আদায় বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মাছ বিক্রি করবে না বলে ঘোষণা দেন।
জানা গেছে, নতুন বাংলা সালের জন্য কিশোরগঞ্জ শহরের পুরান থানা ১৪ লাখ, বড়বাজার ২১ লাখ ও কাচারিবাজার মাছ মহাল সাত লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। দুপুরে বড়বাজার মাছ মহালে ইজারাদারদের লোকজন খাজনা তুলতে গেলে বিপত্তি দেখা দেয়। তারা পৌরসভা নির্ধারিত খাজনা পাঁচ টাকার স্থলে এক থেকে দেড়শ টাকা আদায় করতে চাইলে মাছ ব্যবসায়ীরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
কিশোরগঞ্জ শহর মাছ বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মুকসেদ মিয়া বলেন, পৌরসভার নির্ধারিত খাজনা বড় মাছের ক্ষেত্রে প্রতি ভিটা পাঁচ টাকা। আর ছোট মাছের ক্ষেত্রে চার টাকা। এভাবেই এতদিন খাজনা দিয়ে যাচ্ছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু নতুন ইজারাদার নিয়োগের পর প্রতি ভিটা এক থেকে দেড়শ টাকা দাবি করেন। এত বেশি টাকা খাজনা দিয়ে ব্যবসা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছি আমরা।
তিনি বলেন, বিক্ষোভের কারণে ইজারাদারের লোকজন আমাদের ওপর চড়াও হয়। এ কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাছ বিক্রি বন্ধ রেখেছি। পৌরসভা নির্ধারিত খাজনার চেয়ে এক টাকাও বেশি দেবো না।
এদিকে, এ নিয়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে বড়বাজারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মাছ ব্যবসায়ীরা মাছ মহাল বন্ধ করে বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে শহরের বড়বাজার, পুরান থানা ও কাচারিবাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সদর থানার সামনে অবস্থান নেন।
কিশোরগঞ্জ শহর মাছ বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আলম মিয়া বলেন, এর আগে কোনও দিন ইজরাদারদের সঙ্গে খাজনা নিয়ে আমাদের কোনও ঝামেলা হয়নি। তবে নতুন ইজারাদাররা বছরের প্রথম দিনেই আমাদের ওপর অস্বাভাবিক হারে খাজনার বোঝা চাপিয়ে দেয়। যা আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে আমরা ধর্মঘটে নেমেছি।
এ বিষয়ে বড়বাজার মাছ মহালের ইজারাদার আরিফুল ইসলাম আরজু বলেন, আমার জানামতে আগে মাছ ব্যবসায়ীরা এক থেকে দেড়শ টাকা হারে খাজনা দিতেন। আমাদের এই হারে খাজনা না দিলে পৌরসভার মেয়র যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তাই আমরা মেনে নেবো। অথবা ইজারা বাতিলের জন্য পৌর মেয়রের কাছে আবেদন করবো।
তবে মাছ ব্যবসায়ীরা ইজারাদারের বক্তব্যকে মিথ্যা দাবি করে বলেন, তারা কোনও দিন একশ-দেড়শ টাকা হারে খাজনা দেননি। চার-পাঁচ টাকা খাজনা দিয়েছেন সবসময়। একদিনের ব্যবধানে একশ-দেড়শ টাকা খাজনা নির্ধারণ করেছেন নতুন ইজারাদার।
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. পারভেজ মিয়া বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে পৌরসভা নির্ধারিত খাজনার চেয়ে বেশি আদায়ের কোনও সুযোগ নেই। অভিযোগ সত্য হলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/এএম/









