দীর্ঘ ১২ বছর পর বন্দিদশা থেকে মুক্ত হলেন এক তরুণী। সোমবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুরের এক নম্বর আমলি আদালতে হাজির হয়ে ওই তরুণী নিজ জিম্মায় জামিন চান। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলামের আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
জানা যায়, সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ওই তরুণীর সেফ হোমে বন্দি থাকার বিষয়টি জানতে পারে। এরপর থেকেই তাকে মুক্ত করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে তারা।
ব্লাস্ট ফরিদপুরের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শিপ্রা গোস্বামী বলেন, ‘অসহায় নারীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিয়ে থাকে ব্লাস্ট। এরই ধারাবাহিকতায় সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে ওই তরুণীর বিষয়টি জানতে পারি। পরে সেফ হোমে গিয়ে বিস্তারিত জেনে আমরা তাকে মুক্ত করতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০১০ সালের ১ এপ্রিল কে বা কারা একটি জিডি মূলে তাকে সেফ হোমে রেখে যায়। তখন তার বয়স ছিল ১০ বছর। ওই তরুণী কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তখন পরিচয় দিতে পারেননি। এভাবে দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায়। সেফ হোমে থাকার সময়ে কিছুটা সুস্থ হন তিনি। তিন মাস আগে ব্লাস্টের আইনজীবী অর্চনা দাস বিষয়টি জানতে পেরে তাকে মুক্ত করার ব্যবস্থা নেন।’
ফরিদপুরের মহিলা ও শিশু-কিশোরী হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রের (সেফ হোম) উপ-তত্ত্বাবধায়ক তাহসিনা জামান বলেন, ‘ওই তরুণীকে ফরিদপুরের মহিলা ও শিশু-কিশোরী হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে আনার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য আদালতের মাধ্যমে গাজীপুর সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর কিছুটা সুস্থ হলে ২০১৬ সালে পুনরায় তাকে ফরিদপুর সেফ হোমে আনা হয়। তিনি এখন সুস্থ। তবে তার পরিচয় বা বাড়ির ঠিকানা বলতে পারেন না।’
নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মো. নুরুল হুদা বলেন, ‘সাধারণত ১৮ বছর বয়স না হলে কেউ নিজ জিম্মায় জামিন চাইতে পারে না। ওই তরুণীর বয়স এখন ২২ বছর। ব্লাস্টের মাধ্যমে তাকে আইনি সহায়তা দিয়ে মুক্ত করা হয়েছে। তার নিরাপদ আবাসন ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া তার কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করা হবে।’









