শরীয়তপুরের জাজিরা ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথের জাজিরার সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাটে নতুন ফেরিঘাট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকেই শুরু হয় নতুন ফেরিঘাট নির্মাণকাজ। ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ২৫ আগস্ট নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় পদ্মা সেতুর সঙ্গে কয়েকবার ফেরির ধাক্কা লাগে। তাই ওই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে করে ভোগান্তিতে পড়তে হয় দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক জেলার মানুষকে। পরে জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাট এলাকায় নতুন করে ফেরিঘাট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নাব্যতা সংকট ও রাস্তার কারণে ফেরি চলাচল শুরু করতে পারেনি। তবে ৭ ডিসেম্বর পুনরায় নাব্যতা সংকটের সমাধান করে শিমুলিয়া থেকে জাজিরা নৌপথে সীমিত পরিসরে ফেরি চলাচল করতে থাকে। রাত ও দিনে ফেরি চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে আরও অধিক সেবা নিশ্চিত করতে নতুন ফেরিঘাট নির্মাণ ও ফেরি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।
ফেরি পার হয়ে যাওয়া যাত্রী মাহবুব আলম বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হওয়ার আগে আমাদের শরীয়তপুর, মাদারীপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর মানুষের যাতায়াত সেবা নিশ্চিত করতে ফেরি বৃদ্ধি ও ঘাট নির্মাণ করলে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমে যাবে।’
বরিশাল থেকে আসা আরেক যাত্রী রুবেল বলেন, ‘পদ্মা সেতুর কারণে ফেরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা ভোগান্তিতে পড়ি। এখন একটা ফেরিঘাট আছে, বেশি লোড হলে সমস্যা হয়ে যায়। আরও একটা হলে চাপটা একটু কমবে।’
বিআইডব্লিউটিসির জাজিরা সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাটের দায়িত্বে থাকা সহকারী ব্যবস্থাপক সামছুল আবেদীন জানান, প্রতিদিন প্রায় শতাধিক মোটরসাইকেলসহ প্রায় চার শতাধিক প্রাইভেট কার, মাইক্রো, পিকআপ ও জরুরি যানবাহন পারাপার করে। তবে এখন এই ঘাটে চারটি ফেরি নিয়মিত চলাচল করছে। আরেকটি ঘাট চালু হলে চাপ থাকবে না।’
বিআইডব্লিউটিএ-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী হারিস আহমেদ পাটোয়ারী জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নতুন এ ঘাটের কাজ শুরু করা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় লঞ্চ বন্ধ থাকলেও যাত্রীরা যাতে ফেরিতে পদ্মা পার হতে পারেন, তাই ঘাটের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ঈদের সময় একযোগে শিমুলিয়া-মাঝির ঘাট এবং শিমুলিয়া-বাংলাবাজার দুই রুটেই দিনরাত ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে।









