পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পিকআপ ভ্যানে মোটরসাইকেল নিয়ে সেতু পার হওয়াতেও বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন মোটরসাইকেলচালকরা। তবে শর্তসাপেক্ষে মোটরসাইকেল পিকআপে তুলে ঢেকে পণ্যের গাড়ি বলে সেতু পার করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেখা গেছে, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজায় মোটরসাইকেলবোঝাই পিকআপগুলো থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। একেকটি পিকঅ্যাপে ১০-১২টি মোটরসাইকেল নিয়ে সেতু দিয়ে পার হতে দেখা যায়।
মোটরসাইকেলচালক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি। পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় এসে দেখি, মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ। এরপর আমি শিমুলিয়া ফেরিঘাটে যাই। সেখানে দেখি, তেমন যানবাহন নেই। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর নিরূপায় হয়ে টোল প্লাজায় ফিরে আসি। পরে আমরা কয়েকজন মিলে একটি পিকআপ ভ্যান ভাড়া করি। মোটরসাইকেল পিকআপে তুলে দিয়েছে। এখন আমরা বাসে সেতুর পার হবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে প্রতিটি মোটরসাইকেলের জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছে ৪৫০ টাকা। স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হলো ঠিকই, কিন্তু আমাদের ভোগান্তি আরও বেড়ে গেল। আমরা এর থেকে পরিত্রাণ চাই।’
পিকআপচালক আমির হেসেন বলেন, ‘পদ্মা সেতুতে শুধু মোটরসাইকেল যাওয়া নিষেধ। তাই আমরা প্রতিটি পিকআপে ১০-১২ টি মোটরসাইকেল রশি দিয়ে বেঁধে সেতুর এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে দিয়ে আসছি।’
মাওয়া টোল প্লাজায় কর্মরত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন জানান, পিকআপ ভ্যানে মোটরসাইকেল কাপড় বা কোনও কিছু দিয়ে ঢেকে পার করা হলে, সেটা পণ্যবাহী গাড়ি হিসেবে ধরা হয়। সেক্ষেত্রে টোল পরিশোধ করে সেতু পার হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, সেতুতে মোটরসাইকেলের জন্য বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল। তাই সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করে কর্তৃপক্ষ। তবে পণ্য হিসেবে পিকাপে মোটরসাইকেল পার হতেই পারে। তবে মোটরসাইকেল গেলেও কোনও চালক এভাবে যেতে পারবেন না। সকাল থেকে সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহন চলাচল করছে। সেতুর দুই প্রান্তে সেনাবাহিনী ও পুলিশ টহলে রয়েছে। এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুর ১২টার দিকে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি টোল দিয়ে সেতু পার হন। রবিবার ভোর ৬টা থেকে পদ্মা সেতু দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল শুরু হয়। পরে রাতে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার।









