নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেওয়া রোকসানা বেগমকে (৩২) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ জুলাই) রাতে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ভবেরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে র্যাব-১১।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- সোনারগাঁয়ের বাইশটেকী গ্রামের মৃত রাজু মিয়ার ছেলে মনির হোসেন (৪৫) ও একই এলাকার মৃত রাইজ উদ্দিনের ছেলে আমির হোসেন (৪০)।
শনিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, ৭-৮ বছর আগে রোকসানা বেগমের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে তিনি একমাত্র ছেলেকে (১৬) নিয়ে ছোট ভাইয়ের বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। জীবিকার তাগিদে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বাইশটেকী গ্রামের দেওয়ান বাড়িতে শাড়ি তৈরির কাজ করতেন। সেই সুবাদে ওই বাড়ির মনির হোসেনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
দীর্ঘদিনের সম্পর্কের একপর্যায়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে মনির হোসেন তার মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন। গত ১৫ জুলাই মনিরের মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ১৮ জুলাই সকালে বিয়ের দাবিতে তার বাড়িতে অবস্থান নেন রোকসানা। এ সময় মনিরের বাড়ির লোকজন তাকে একাধিকবার বাড়ির বাইরে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেয়। কিন্তু রোকসানা নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। এর ফলে মনির হোসেন ও তার ভাই গোলজার, খোকন ওরফে খোকা, ছেলে রানা ও মনিরের স্ত্রী মিলে লোহার পাইপ ও লাঠি দিয়ে তাকে পিটিয়ে জখম করে।
পরে মুমূর্ষু অবস্থায় রোকসানাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় মনির হোসেন ও তার সহযোগীরা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর সংবাদ শুনে মনির ও তার সহযোগীরা লাশ রেখে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছোট ভাই বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এই ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।









