বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বরের কামরাব ধুপিরটেকে আবিষ্কৃত ইট দিয়ে নির্মিত ৩৫ ফুট বাই ৩৫ ফুট বৌদ্ধ পদ্ম মন্দিরটি সংরক্ষণে নির্মাণ করা হচ্ছে জাদুঘর। প্রত্নস্থান উয়ারী বটেশ্বরে প্রাপ্ত নিদর্শনগুলো স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য এটিই প্রথম উদ্যোগ। ২০০০ সাল থেকে এই প্রত্নস্থানটিতে খননকাজ চলে আসলেও স্থায়ী সংরক্ষণের অভাবে অস্থায়ীভাবে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে এখানকার অধিকাংশ আবিষ্কার। জাদুঘরটি নির্মাণ হলে এটিই হবে বেসরকারি উদ্যোগে নির্মাণ করা দেশের প্রথম প্রত্নস্থান জাদুঘর।
শনিবার দুপুরে শিবপুর উপজেলার ধুপিরটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠাকিভাবে এই নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উচ্চ শিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. গৌরাঙ্গ চন্দ্র মহান্ত।
প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র ‘ঐতিহ্য অন্বেষণ’-এর এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নূহ উল আলম লেনিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের উপ-পরিচালক আফরোজা খান মিতা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতত্নত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.মোকাম্মেল হোসেন ভূঁইয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জসিম উদ্দিন হায়দার,উপজেলা চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম মৃধা, ঐতিহ্য অন্বেষণের নির্বাহী পরিচালক সূফী মোস্তাফিজুর রহমান ও প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রাহক হাবিবুল্লাহ পাঠান।
উল্লেখ্য, নরসিংদী জেলা সদরের ৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত দুটি গ্রামের নাম উয়ারী-বটেশ্বর। এই প্রত্নস্থানে পাওয়া গেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন। ১৯৩৩ সালে সাপ্তাহিক মোহাম্মদী পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে স্থানীয় স্কুলশিক্ষক হানিফ পাঠান এ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি সুধী সমাজের সামনে তুলে আনেন। পরবর্তীতে তার ছেলে হাবিবুল্লাহ পাঠান স্থানটির গুরুত্ব তুলে ধরে পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন। ১৯৮৯ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমার চক্রবর্তী উয়ারী-বটেশ্বর পরির্দশনে এসে প্রাচীন সভ্যতার অনুমান করেছিলেন।
২০০০ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে খননকাজের ফলে এখানে আবিষ্কৃত হয় উপমহাদেশের প্রাচীনতম জনবসতির একটি দূর্গ। আড়াই হাজার বছরের পুরনো ইট-সুরকির নির্মিত রাস্তা, আর্য আমলের লৌহ কুঠার, ১৫ সের ওজনের লৌহার হাতুড়ি, ছোটদের ব্যবহার্য মিনি লৌহ কুঠার, ধনুকের গোলক (স্প্রিং বল), পুরা মাটির শিবলিঙ্গ, পুরা মাটির স্ত্রী লিঙ্গ, নকশী প্রস্তর গুটিকার মালাসহ নানা নিদর্শন।
সর্বশেষ প্রত্নতত্ত্ব অঞ্চলের টঙ্গির টেকে নান্দনিক অলঙ্করণ সমৃদ্ধ বৌদ্ধ মন্দির, গর্ভগৃহ, সীমানা প্রাচীরের সন্ধান পাওয়া গেছে। অলঙ্কৃত বিস্তৃত প্রবেশপথ ছাড়াও মন্দির কমপ্লেক্সে এখন পর্যন্ত তিনটি স্তুপের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা ১২শ’ বছর আগের বলে ধারণা করা হচ্ছে।
/জেবি/এমপি/








