X
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২
১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

দুই দিন আগে বোয়ালমারী ইউপিতে জন্ম নিবন্ধন করতে যান রহিমা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৯:০৯আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৯:০৯

২৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর শনিবার রাতে (২৪ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন রহিমা বেগম। তবে এর দুই দিন আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য বোয়ালমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলেন তিনি। পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হক এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহ হলে রহিমা বেগমকে ইউপি সদস্যের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু পরে তিনি সেখানে যাননি, সনদ নিতেও আসেননি। 

খুলনা নগরের মহেশ্বরপাশা এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া রহিমা বেগমকে সদর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের কুদ্দুস বিশ্বাসের (৫৫) বাড়ি থেকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় ওই বাড়ির তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুলনা পুলিশ থানা হেফাজতে নিয়েছে। তারা হলেন, বাড়ির মালিক কুদ্দুস বিশ্বাসের স্ত্রী হিরা বেগম (৫০), ছেলে আলামিন বিশ্বাস (২৫) ও কুদ্দুস মোল্যার ছোট ভাই আবুল কালামের স্ত্রী রাহেলা বেগম (৪৫)। তারা এখন খুলনা পুলিশের জিম্মায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। 

কুদ্দুস বিশ্বাস বর্তমান বোয়ালমারী উপজেলা ডোবরা জনতা জুটমিলের একজন কর্মচারী। রহিমা বেগম গত ১৭ সেপ্টেম্বর এই বাড়িতে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে আসেন।

উদ্ধারের ১৪ ঘণ্টা পর মুখ খুললেন রহিমা

বোয়ালমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হক বলেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর রহিমা বেগম আমার অফিসে এসেছিলেন জন্ম নিবন্ধন করানোর জন্য। তাকে না চিনতে পেরে ইউপি সদস্যের কাছে পাঠাই। তবে পরে আর রহিমা বেগম পরিষদে আসেননি। শনিবার রাতে খুলনা পুলিশ বোয়ালমারী থানা পুলিশের সহায়তায় রহিমাকে উদ্ধার করে। এ বিষয়ে কুদ্দুসের মেয়ে-জামাতাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারি রহিমার বাড়িতে জমিজমা নিয়ে ঝামেলা চলেছিল। এ কারণে তিনি পূর্ব পরিচিত কুদ্দুসের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে কুদ্দুস বিশ্বাসের বাড়ির তিন সদস্যকে খুলনা পুলিশ জবানবন্দি নেওয়ার জন্য নিয়ে গেছে। তাদের মধ্যে দুই জন মারাত্মকভাবে অসুস্থ। একজনের অস্ত্রোপচার হয়েছে ও আরেকজনের করোনা পজিটিভ বলে জানান চেয়ারম্যান। 

বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মোশারফ হোসেন বলেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর রহিমা বেগম ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলেন জন্ম নিবন্ধন করানোর জন্য। তাকে না চিনতে পেরে চেয়ারম্যান আমার কাছে পাঠায়। কিন্তু তিনি আমার কাছে আসেননি। 

তিনি আরও বলেন, খুলনা মহানগরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম আমার পূর্বপরিচিত। রহিমা বেগমকে না জানিয়ে আমরা কাউন্সিলর সাইফুলকে সবকিছু খুলে বললে তারা খুব দ্রুত রহিমা বেগমকে নিয়ে যাবেন বলে জানান। রহিমা বেগম যাতে পালিয়ে না যান সে বিষয়ে আমাদেরকে নজর রাখতে বলেন কাউন্সিলর। তারপর শনিবার রাতে খুলনা ও বোয়ালমারী থানা পুলিশের উপস্থিতিতে রহিমা বেগমকে খুলনা নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কুদ্দুস বিশ্বাসের বাড়ির তিন জন সদস্যকে খুলনা পুলিশ জবানবন্দি নেওয়ার জন্য নিয়ে গেছে বলে জানান তিনি। 

এদিকে রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামের কুদ্দুস বিশ্বাসের মেয়ে সুমাইয়া বেগম বলেন, আমার বাবা কুদ্দুস বিশ্বাস খুলনা শহরের মীরেরডাঙ্গা সোনালী জুটমিলে চাকরির সুবাদে খুলনা নগরের মহেশ্বরপাশা এলাকায় রহিমা বেগমের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। আমার ভাই আলামিন ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে রহিমা বেগমের বিষয়ে জানতে পারে। তার মেয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেওয়া দুটি মোবাইল নম্বরে আমরা যোগাযোগ করি। তবে একটি নম্বরে ফোন দেওয়ার পর রহিমা বেগমের ছেলে মিরাজের স্ত্রী পরিচয়দানকারী এক নারী কল রিসিভ করেন। তখন তাকে রহিমা বেগমের বিষয়ে জানানো হয়। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনও কথা বলতে চাননি। এছাড়া এ বিষয়ে আর ফোন দিতেও নিষেধ করেন। তারপর ভাইয়ের সন্দেহ হলে রহিমা বেগমের বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেনকে জানানো হয়। তিনি খুলনা মহানগরের ২ নম্বরের ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুল ইসলামকে বিষয়টি জানান।  
 
দৌলতপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুর রহমান বলেন, ২৮ বছর আগে খুলনার সোনালী জুট মিলে চাকরি করতেন কুদ্দুস বিশ্বাস। তখন তিনি পরিবার নিয়ে রহিমার বাসায় ভাড়া থাকতেন। ওই সময় রহিমার পরিবারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে কুদ্দুসের পরিবারের। কয়েক বছর আগে কুদ্দুস পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন। তাদের মধ্যে মাঝেমধ্যে যোগাযোগ হতো। সম্প্রতি পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে রহিমার সঙ্গে স্বামীর কলহ চলছিল। এ নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আত্মগোপন করেন রহিমা। গত ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি কুদ্দুস বিশ্বাসের বাড়িতে পৌঁছান। এরপর থেকে সেখানেই ছিলেন তিনি।

এদিকে রহিমার পরিবারের দাবি, গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে পানি আনতে বাড়ি থেকে নিচে নামেন তিনি। একঘণ্টা পার হলেও তিনি বাসায় ফিরে আসেননি। পরে মায়ের খোঁজে সন্তানরা সেখানে গিয়ে তার ব্যবহৃত স্যান্ডেল, গায়ের ওড়না ও কলস রাস্তার ওপর পড়ে থাকতে দেখেন। রাতে সম্ভাব্য সব স্থানে সন্ধান নেওয়ার পর মাকে পান না তারা। এরপর সন্তানরা সাধারণ ডায়েরির পাশাপাশি কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলার তদন্তকালে পুলিশ ও র‌্যাব ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় জনকে গ্রেফতার করে। এরা হলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) প্রধান প্রকৌশল কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. গোলাম কিবরিয়া, নিখোঁজ গৃহবধূর দ্বিতীয় স্বামী হেলাল হাওলাদার, দৌলতপুর মহেশ্বরপশা বণিকপাড়া এলাকার মহিউদ্দিন, পলাশ, জুয়েল ও হেলাল শরীফ।

এ অবস্থায় বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ সেপ্টেম্বর আদালত মামলাটির তদন্তভার পিবিআইতে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে নথিপত্র ১৭ সেপ্টেম্বর বুঝে নেয় পিবিআই খুলনা। এখন এই মামলা তদন্ত করছেন পিবিআই পরিদর্শক আব্দুল মান্নান। ২২ সেপ্টেম্বর রহিমার মেয়ে মরিয়ম আক্তার ওরফে মরিয়ম মান্নান দাবি করেন, তার মায়ের লাশ তিনি পেয়েছেন। তিনি ২৩ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের ফুলপুরে দিনভর অবস্থান নেন এবং ব্যস্ততম সময় অতিবাহিত করেন। একইসঙ্গে সেখানে ১০ সেপ্টেম্বর উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক মহিলার লাশকে নিজের মা বলে শনাক্ত করেন। পরে ডিএনএ প্রোফাইল করার জন্য সম্মত হন। 

 

আরও পড়ুন:

/টিটি/
শেখ হাসিনাকে বরণে প্রস্তুত চট্টগ্রাম
শেখ হাসিনাকে বরণে প্রস্তুত চট্টগ্রাম
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে খেলা হচ্ছে না সামির
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে খেলা হচ্ছে না সামির
অস্ট্রেলিয়ার কাছে আর্জেন্টিনা ম্যাচটা ‘যুদ্ধের’
অস্ট্রেলিয়ার কাছে আর্জেন্টিনা ম্যাচটা ‘যুদ্ধের’
রাজশাহীতে বিএনপির গণসমাবেশ শুরু
রাজশাহীতে বিএনপির গণসমাবেশ শুরু
সর্বাধিক পঠিত
আঙুলের অপারেশনে শিশুর মৃত্যু, গোসলের সময় দেখা গেলো পুরো পেটে সেলাই
আঙুলের অপারেশনে শিশুর মৃত্যু, গোসলের সময় দেখা গেলো পুরো পেটে সেলাই
শাহবাগে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মৃত্যু দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড: রমনা ডিসি
শাহবাগে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মৃত্যু দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড: রমনা ডিসি
রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে আবিরের মা-বাবা
আয়াত হত্যারিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে আবিরের মা-বাবা
তারেক রহমানকে ‘বেয়াদব’ বললেন ওবায়দুল কাদের
তারেক রহমানকে ‘বেয়াদব’ বললেন ওবায়দুল কাদের
বিএনপির সমাবেশে খালেদা জিয়ার যোগদান নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী
বিএনপির সমাবেশে খালেদা জিয়ার যোগদান নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী