প্রায় ২৫ বছর পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন রবিবার (২৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলন ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এরই মধ্যে শীর্ষ পদে কারা আসবেন তা নিয়ে চলছে আলোচনা। কাদের হাতে আগামী দিনের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে তা নিয়ে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করছেন নেতাকর্মীরা।
কেন্দ্র ঘোষিত সময় অনুযায়ী রবিবার দুপুর ২টা থেকে শহরের ইসদাইর এলাকার ওসমান পৌর স্টেডিয়ামে সম্মেলন শুরু হবে। স্টেডিয়ামে মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। রং-বেরঙের ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো শহর।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের। সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কার্যকরী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওছার, আনোয়ার হোসেন, সাহাবউদ্দিন ফরাজী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ কে এম শামীম ওসমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সঞ্চালনা করবেন সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল।
দলীয় সূত্র জানায়, আগামী এক বছর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে বিষয় মাথায় রেখে জেলার শীর্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়া হবে। এরই মধ্যে শীর্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় দুই মেরুর (সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান ও সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী) রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে কোন বললের নেতাকর্মীদের কমিটিতে প্রাধান্য দেওয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
স্থানীয় দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, এবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সেক্রেটারি পদে সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান ও সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর অনুসারীরা প্রাধান্য পাবেন। আবার তারাও কমিটিতে পদ পেতে পারেন।
এদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন কমিটির বর্তমান সভাপতি আব্দুল হাই, সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানসহ আরও অনেকে। যদিও সম্প্রতি এক সভায় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, 'আমি প্রার্থী নই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন সৈনিক।'
এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।
দলীয় একটি সূত্র বলছে, বর্তমান কমিটির শীর্ষ পদের নেতারা আবারও দায়িত্ব পেতে পারেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান ও সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর মাঝে ফাটল ধরাতে চাইবেন না কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এজন্য আগের কমিটির শীর্ষ পদধারীরা ফের কমিটিতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সম্মেলনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। আশা করছি, সুষ্ঠুভাবে সম্মেলনের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। আর দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে। আমি সভাপতি হওয়ার ইচ্ছাপোষণ করছি, তবে নেত্রী যাকে ভালো মনে করবেন তাকেই দেবেন। কারা কমিটিতে আসছেন এখনও তা বলা যাচ্ছে না।'
এর আগে ১৯৯৭ সালের ২০ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।তখন অধ্যাপক নাজমা রহমানকে সভাপতি ও এ কে এম শামীম ওসমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়নি। তবে জেলা কমিটি একাধিকবার ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর আব্দুল হাইকে সভাপতি, সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। পরে ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর ছয়টি পদ শূন্য রেখে জেলা আওয়ামী লীগের ৭৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।









