ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, ‘আমরা কোনও কাজেই মূল্যায়ন পাচ্ছি না। তারপরও জঙ্গিবাদ-সাইবার ক্রাইম নির্মূলসহ নানারকম কাজ আমরা করে যাচ্ছি। পুলিশ কাজ করতে গেলে সবার মন জয় করা যাবে না। কারও কারও মনে দুঃখ পাবে, কারও কষ্ট পাবে। স্বাধীনতার পর থেকে পুলিশ জনকল্যাণে কাজ করে এসেছে। আমাদের ভালো কথা কেউ বলে না। কিন্তু কোথাও আমরা কোনও ভুল করলেই সেটা দেখায়।’
শনিবার (৭ জানুয়ারি) রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের আলী আহমদ চুনকা পাঠাগারে আয়োজিত এক গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এ বছর খুব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে হারুন অর রশীদ বলেছেন, ‘একদিকে করোনাভাইরাস ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশের বাস্তব পরিবেশ কিছুটা ঘোলাটে রয়েছে। তার মাঝে আবার কিছু অশুভ শক্তি যারা একাত্তরকে মেনে নিতে পারে নাই পঁচাত্তর সংগঠিত করেছে- এই চক্রটা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। তারা বিভিন্ন জায়গায় সুযোগ পেলে বোমা-ককটেল ফোটাচ্ছে। মানুষের জান-মালের ক্ষতি করছে। আমরা এই অপশক্তিসহ জঙ্গিবাদ প্রতিহতের জন্য কাজ করছি।’
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের বছরে অশুভ শক্তিগুলো নানা তৎপরতা-অপতৎপরতা চালাবে। এই বছরটা নির্বাচনের বছর যেহেতু, এখন নানা তৎপরতা-অপতৎপরতা ঘটবে। এসব প্রতিহত করতে আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করবো।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রায়ই দেখবেন, পুলিশের ওপর হামলা হয়। কারা এ হামলা করে? একাত্তরের যুদ্ধের সময়ও প্রথম রাজারবাগে পুলিশ প্রতিরোধ স্থাপন করেছিল। ওই সময় পুলিশকে কিন্তু টার্গেট করেছিল একাত্তরের পরাজিত শক্তি। এখনও তারা যেখানে পুলিশকে পাচ্ছে সেখানে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছে। কারণ, তারা জানে পুলিশ হলো একমাত্র সংগঠন- যারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি। পুলিশ জনগণের জন্য কাজ করে বলেই তারা প্রায় সময় পুলিশের ওপর হামলা করছে। গত ৭ তারিখ পুলিশের ওপরে হামলা করেছে। আমরা যদি মাইর খাই, তখন তারা বলে পুলিশের সাহস নাই। আবার আমাদের ওপর হামলা করার পর আমরা যখন প্রতিরোধ করি, তখন তারা বলে পুলিশ খারাপ আচরণ করেছে।’
ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘দেশে স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষের বড়ই অভাব। আমাদের বর্তমান সরকারের এত অর্জন ও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এত উন্নয়ন হয়েছে, এটা মিডিয়ার পক্ষেই তুলে ধরা সম্ভব। আমরা পুলিশ সংগঠন কোনও রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি হয়ে কাজ করি না। আমরা ভালো কাজ করার চেষ্টা করি। তবে ভালো কাজ করতে গিয়ে পুলিশের ওপর যদি হামলা, গাড়ি ভাঙচুর হয়- সেক্ষেত্রে আমাদের প্রতিহত করতে হয়। আমরা সে কাজটা করছি।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, বিষের বাঁশির সম্পাদক সুভাস সাহা, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুমসহ অনেকে।








