গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেই পরিচালক, উপপরিচালক। সেইসঙ্গে রয়েছে চিকিৎসক সংকট। এতে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক মাস ধরে হাসপাতালের পরিচালকের পদ শূন্য রয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে উপপরিচালকের পদ খালি। বর্তমানে ৮৬ চিকিৎসকের পদে আছেন ৬৯ জন। বাকি ১৭ পদে চিকিৎসক নেই।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, চিকিৎক সংকটে ইনডোর এবং আউটডোরে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা অপারেশন কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না। অপারেশন থিয়েটারে চার পদের বিপরীতে আছেন দুই চিকিৎসক। এ জন্য অপারেশন করতে হচ্ছে তালিকা ধরে। ফলে অপারেশনের রোগীদের অপেক্ষায় রাখতে হচ্ছে।
হাসপাতালের দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনের মধ্যে একটিতে মাঝেমধ্যে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে রোগীদের আলট্রাসনোগ্রাম ঠিকমতো করানো যাচ্ছে না। রেডিওলজি বিভাগে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট আছেন একজন। তাকে এমআরআই, সিটিস্ক্যান, এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন চালাতে হচ্ছে। ফলে সেখানেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।
চিকিৎসক সংকটে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহীন। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের পরিচালক তপন কান্তি সরকার গত ২০ ফেব্রুয়ারি অবসরে গেছেন। এর আগে উপপরিচালক পদে দায়িত্বপালন করেছেন তিনি। ওই পদ থেকে ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি পরিচালক পদে যোগ দেন। এরপর থেকে উপপরিচালকের পদ শূন্য। পরিচালক অবসরে যাওয়ার পর থেকে আমাকে সব দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এসব পদে লোকবল প্রয়োজন। কারণ একজনের পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব হয় না।’
চিকিৎসক সংকটের মধ্যে সাত জন প্রেষণে (ডেপুটেশন) অন্যত্র চলে গেছেন উল্লেখ করে মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘বর্তমানে ৮৬ চিকিৎসকের মধ্যে আছেন ৬৯ জন। খালি পদ আছে ১৭টি। আউটসোর্সিং পদেও জনবল সংকট রয়েছে। সম্প্রতি আউটসোর্সিং পদে ৭০ জন চেয়ে ১৫ জন পাওয়া গেছে।’
তিনি বলেন, ‘এসব সংকটের কারণে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। যারা আছেন তারা বাড়তি কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাই।’
চিকিৎসক সংকটের কারণে রেশনিং পদ্ধতিতে অপারেশন করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘পরিচালক, উপপরিচালক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালককে যাবতীয় কাজ করতে হচ্ছে। চিকিৎসক না থাকায় সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালের পরিচালক, উপপরিচালক ও বিভিন্ন পদে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানাই।’









