নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের ভাই সাব্বির সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন ১৩ বছর আগে। তার মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এবার নিজের এবং অপর জীবিত ভাইয়ের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অ্যাডভোকেট তৈমুর।
শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক সমাবেশে তৈমুর আলম খন্দকার এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সাব্বিরের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। তবে এতদিন পর সাব্বির হত্যার বিচারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ শহরে মিছিল ও সমাবেশ করে সাব্বির আলম খন্দকার ফাউন্ডেশন।
এসময় অ্যাডভোকেট তৈমুর বলেছেন, ‘আমাকে (তৈমুর) ও ছোটভাই খোরশেদকে এবার হত্যা করতে চাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। এরাই আমার ছোটভাই সাব্বিরকে হত্যা করেছিল।’
সাব্বির আলম খন্দকার ছিলেন পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এর সাবেক সহ-সভাপতি।
তৈমুর আলমের অপর ভাই মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ হলেন মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ও সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর।
সাব্বিরকে কোনও ব্যক্তিগত কারণে হত্যা করা হয়নি। শুধু সমাজসেবায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এসময় অ্যাডভোকেট তৈমুর অভিযোগ করেন, হত্যাকারীরা টাকা দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ চার্জশিট করিয়েছে। তাই আমরা বিচার পাইনি।
তবে সাব্বির হত্যা মামলা নিয়ে আগেই রাজনীতির অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন মহলে। এদিকে তৈমুর আলম খন্দকার ত্রুটিপূর্ণ চার্জশিটের কথা বললেও মামলার নথি ঘেটে পাওয়া গেছে ভিন্ন তথ্য। যদিও তৈমুর এসব নিয়ে তেমন কথা বলতে রাজি হননি।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে অপারেশন ক্লিনহার্ট চলাকালীন সময়ে এক অনুষ্ঠানে প্রশাসনের লোকজনের উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্য প্রদানের কয়েকদিন পর ১৮ ফেব্রুয়ারি দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি নিহত হন।
হত্যাকাণ্ডের পর তার বড়ভাই তৈমুর আলম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের তৎকালীন বিএনপি এমপি গিয়াসউদ্দিসহ ১৭ জনকে আসামি করে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন।
এরপর থেকে মোট ৯ জন তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়। পরবর্তিতে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তর করা হয়। সিআইডির এএসপি মসিহউদ্দিন দশম তদন্তকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ ৩৪ মাস তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ৮ জানুয়ারি আদালতে ৮ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করেন।
এতে মামলা থেকে গিয়াসউদ্দিন, তার শ্যালক জুয়েল, শাহীনকে অব্যাহতি দিয়ে সাবেক ছাত্রদল সভাপতি জাকির খান, তার দুই ভাই জিকু খান, মামুন খানসহ মোট ৮ জনকে আসামি উল্লেখ করা হয়।
মামলার প্রধান আসামি গিয়াসউদ্দিনকে মামলা থেকে বাদ দেওয়ায় মামলার বাদী তৈমুর আলম খন্দকার সিআইডির দেওয়া চার্জশিটের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আদালতে ‘না রাজি পিটিশন’ দাখিল করেন।
পিটিশনে তৈমুর আলম বলেন, গিয়াসউদ্দিনই সাব্বির হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক। গিয়াসউদ্দিন ও তার সহযোগীদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা গোঁজামিলের চার্জশিট দাখিল করেছেন। পরবর্তিতে আদালত মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।
এরপর থেকে গত ৬ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ বিচারিক হাকিম আদালতে (ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট) মামলার শুনানি চলে। কিন্তু ২০০৭ সালের ১৮ এপ্রিল তৈমুর আলম খন্দকার যৌথবাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার এবং ২০০৮ সালের মে মাসে জামিনে মুক্তি পেলেও বিভিন্ন অজুহাতে নারাজি প্রদানে বিরত ছিলেন তৈমুর। বরং তিনি বার বার মামলাটি বিলম্ব করেছেন।
সাব্বির হত্যা মামলার আগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন জানান, ‘মামলাটি এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু ‘না রাজি পিটিশন’ প্রত্যাহারের পর আসামি পক্ষের আবেদনের কারণে মামলাটিতে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিয়েছে।’
/এনএস / এএইচ /







