নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজে এসএসসি পরীক্ষার্থী মেহেদী হাসান সজিবকে (১৬) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। নিহতের ছয় সহপাঠীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়। শনিবার (১৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নিহতের বাবা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- উপজেলার বলাইখা এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে শামীম (১৮), মকবুল হোসেনের ছেলে শাকিব (১৮), আক্তারের ছেলে টুটুল (১৮), সাইফুল ইসলামের ছেলে সজিব (১৮), মকবুল তালুকদারের ছেলে আবু বক্কর (১৯) ও পঁচাইখা গ্রামের সোহরাবের ছেলে রাহিম (১৮)।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, নিহত মেহেদী হাসান সজীবের আগামী ৩০ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। ঘটনার দিন সকাল ১০টায় স্কুলের মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়। দুপুর ১২টার দিকে ক্লাসরুম থেকে তাকে ডেকে নিয়ে স্কুলের প্রধান গেটের সামনের সড়কে নিয়ে আসামিরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
পুলিশ জানায়, ‘একটি মেয়েকে প্রেম নিবেদন করাকে’ কেন্দ্র করে নিহত ও আসামিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। এ নিয়ে শুক্রবার বিকালেও সজিব ও বন্ধুদের সঙ্গে হামলাকারীদের বাগবিতণ্ডা হয়। এরই জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই ঘটনায় নিহতের ছয় সহপাঠীকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তারা সবাই একই শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত তদন্তে আমরা পেয়েছি, এক মেয়েকে তারা পছন্দ করতো। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। তারপরও আসামিরা গ্রেফতার হলে আরও বিস্তারিত তথ্য উঠে আসবে।
এর আগে, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের গেটের সামনে ‘প্রেম সংক্রান্ত বিরোধের’ জেরে মেহেদী হাসান সজীবকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় তার তিন বন্ধুকে কুপিয়ে জখম করা হয়। নিহত সজীব (১৬) চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার কালিপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। সে পরিবারের সঙ্গে রূপগঞ্জের বলাইখা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো।









