ঈদুল আজহার আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিতে বাড়ির পথে ছুটছেন মানুষ। ফাঁকা হতে শুরু করেছে শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা। সড়ক ও রেলপথে বেড়েছে যাত্রীচাপ। ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া ও বৃষ্টিতে ভোগান্তি নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (২৭ জুন) শেষ কর্মদিবস থাকায় বিকাল থেকেই শিল্প কারখানার শ্রমিকরা বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন। বুধবার (২৮ জুন) ভোর থেকে এই দুই মহাসড়কের মোড়ে মোড়ে ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল নামে। মহাসড়কে যানজট না থাকলেও যাত্রীদের চাপ রয়েছে এখনও। আর যাত্রীদের হয়রানি ঠেকাতে মাঠে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী, কলেজ গেট, বোর্ড বাজার, চান্দনা চৌরাস্তা, সালনা, রাজেন্দ্রপুর, ভবানীপুর, বাঘের বাজার, শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী, মাওনা চৌরাস্তা, এমসি বাজার, নয়নপুর ও জৈনা বাজার এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর ও চন্দ্রা পর্যন্ত বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বৃষ্টি উপক্ষা করেই যাত্রীদের দেখা গেছে। বাড়ি ফেরা যাত্রীদের সঙ্গী হয়েছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী ও শিশুরা।
জয়দেবপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় কথা হয় শেরপুরের নকলা উপজেলার বাসিন্দা আবু সাইদের সঙ্গে। তিনি বোর্ড বাজার এলাকার পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। প্রতিবার যানজট ও ভিড়ের যন্ত্রণা থাকলেও এবার বৃষ্টি যন্ত্রণা বাড়িয়েছে।
টঙ্গী কলেজ গেট এলাকায় বাসের অপেক্ষায় থাকা ময়মনসিংহ সদরের আকুয়া এলাকার মাহবুবুর রহমান জানান, ভোর থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। সড়কে যাত্রী বেশি থাকলেও বাস কম। বৃষ্টির কারণে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বাসের অপেক্ষায় থাকলেও সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাস পাননি। এলেও যাত্রী ঠাসা। বৃষ্টিতে কয়েক দফা ভিজেছেন।
আশপাশের ঘরমুখো অনেক যাত্রীকে ছাতা মাথায় গন্তব্যে রওনা হতে দেখা গেছে। অনেকে রিকশাসহ বিভিন্ন বাহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও যাচ্ছেন।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সালনা বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছেন। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। জানান, সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি যেমন ভোগান্তি বাড়িয়েছে, তেমনি সড়কে যানবাহনও কমিয়ে দিয়েছে।
কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় পোশাক কারখানার প্রশাসনিক বিভাগের সহকারী আব্দুল খালেকের সঙ্গে। যাবেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সোনতলা গামে। তিনি বলেন, বেলা ১১টায় বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছি। সঙ্গে বউ-বাচ্চা আছে, তারা কী করবে? একা থাকলে কোথাও না কোথাও দাঁড়াতে পারবো। প্রতিবারই মহাসড়কে ভোগান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। ঈদের সময় তুলনামূলক বেশি ভাড়া নেওয়া হলেও বৃষ্টিতে ভাড়া একটু বেড়েছে।
চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ডে টঙ্গীর নোমান পোশাক কারখানার হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, এমনিতেই বৃষ্টির ভোগান্তি। আবার ৫০ টাকার টিকিট কাটতে হলো ১২০ টাকায়। যাবো টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার কলমাকান্দা গ্রামে। বাসে ওঠার সময় দেখলাম গাড়ির দীর্ঘ লাইন। ভয়ে আছি যানজট লেগে যাবে কিনা।
শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় মেঘনা পোশাক কারখানার শ্রমিক নঈমুল ইসলাম বলেন, যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। গত তিন দিন আগে পরিবারের সদস্যদের বাড়ি পাঠিয়েছিলাম। যাবো ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গাজিরভিটা গ্রামে। ভাড়া বেশি দিয়েই যেতে হচ্ছে। এ ছাড়া তো আর উপায় নেই।
জামালপুরের রাজীব পরিবহনের চালক খোরশেদ আলম বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ তুলানমূলক কম থাকলেও সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও স্টপেজে যানবাহনের কারণে যানজট লেগে রয়েছে। যেমন যাত্রী তেমন যানবাহনের ভিড় রয়েছে। ঈদ সামনে, ভাড়া একটু বেশিই দেয় যাত্রীরা। তারাও বেশি ভাড়া দিতে কার্পণ্য করে না।
নাওজোড় হাইওয়ে থানার ওসি আতিকুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কোনও যানজট হয়নি। গতকাল গাজীপুরের সব পোশাক কারখানায় ছুটি হওয়ায় মহাসড়কে যাত্রীর চাপ কিছুটা কমে গেছে। ঘরমুখো যাত্রীদের ঘরে ফেরা সহজ ও যানজটমুক্ত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে হাইওয়ে পুলিশের।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) নাজমুস সাকিব খান বলেন, ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ কমাতে গাজীপুর জেলা পুলিশের ৬০০ সদস্য ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল ও মহাসড়কে কাজ করছে। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার চন্দ্রায় আরও এক সপ্তাহ আগে থেকেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। ওই স্থানে দুই শিফটে ৩০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিরতিহীনভাবে ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার আলমগীর হোসেন বলেন, ঈদযাত্রায় মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য তিন শিফটে কাজ করছেন। চালকরা সচেতন হওয়ায় এবং যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা না করায় এবার যানজট অনেকটা কমে গেছে।









