গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের শৌচাগার থেকে আমিরুল ইসলাম ওরফে রাশেদ উদ্দীন (৩৪) নামে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (০৮ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে কারাগারের শৌচাগারের ভেন্টিলেটরে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
আমিরুল ইসলাম ওরফে রাশেদ উদ্দীন নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মধ্যম চেঙ্গা গ্রামের নুরুল ইসলাম চৌকিদারের ছেলে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, কারাগারের বিছানার চাদরের অংশ ছিঁড়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আমিরুল। এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বলেন, ‘কারাগারের শৌচাগারের ভেন্টিলেটরের সঙ্গে গলায় চাদর পেঁচিয়ে ফাঁস দেন আমিরুল। এ সময় অন্য বন্দিরা বিষয়টি টের পেয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে জানান। খবর পেয়ে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেন। সেখান থেকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
সুব্রত কুমার বালা আরও বলেন, ‘হাতিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় নোয়াখালী জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন আমিরুল। ২০১৪ সালে নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। দণ্ডিত হওয়ার পর ২০১৫ সালের ২১ আগস্ট তাকে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। ওই কয়েদির রুমে আরও দুই জন বন্দি ছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার জামিনের বিষয়ে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছে। এজন্য হয়তো আত্মহত্যা করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমিরুল ইসলামকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে।’









