কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আবারও পিছিয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) কিশোরগঞ্জ সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত দিন থাকলেও আসামি অনুপস্থিতির কারণে সাক্ষ্যগ্রহণ করেননি বিচারক। সেইসঙ্গে আগামী ২৯ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন। এর আগে ৬ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের ধার্য তারিখ ছিল। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পেছালো মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আজ সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত দিন থাকলেও এক আসামির অনুপস্থিতির কারণে সাক্ষ্যগ্রহণ করেননি আদালতের বিচারক মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক। সেইসঙ্গে আগামী ধার্য তারিখে সব আসামিকে আদালতে উপস্থিত করতে জেল সুপার ও কারা মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু নাসের মো. ফারুক সঞ্জু বলেন, ‘জঙ্গি হামলার ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ছিল মঙ্গলবার। আদালতে আসামি ও মামলার বাদীসহ ১৭ সাক্ষী উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু আসামি মো. সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল অন্য একটি মামলায় রাজশাহী কারাগারে থাকায় আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। মূলত আসামিদের কারণে মামলাটি দেরি হচ্ছে। ২৯ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন দিন ধার্য করেছেন বিচারক। আশা করছি, সাক্ষ্যগ্রহণের পর আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে। এর আগে গত ৬ জুন সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ছিল।’
এই মামলার আসামিরা হলেন জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী ওরফে সুভাস ওরফে জাহিদ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, মো. সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল, মাহফুজ ওরফে মুসাফির ওরফে জয় ওরফে নুরুল্লাহ, জাহেদুল হক ওরফে তানিম ও আনোয়ার।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন নামাজ শুরুর আগমুহূর্তে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অদূরে আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে পুলিশের তল্লাশির সময় জঙ্গিরা গ্রেনেড হামলা চালায়। এ ছাড়া তাদের চাপাতির কোপে দুই পুলিশ কনস্টেবল আনছারুল হক ও জহিরুল ইসলাম নিহত হন। এ সময় আট পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ঘটনাস্থলে জঙ্গি আবির রহমান নিহত হন। উভয় পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে নিজ বাসায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান স্থানীয় গৃহবধূ ঝর্ণা রানী ভৌমিক। ওই সময় শফিউল ও স্থানীয় যুবক জাহেদুল হক ওরফে তানিমকে আটক করা হয়। একই বছরের ৪ আগস্ট ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ডাংরি এলাকায় র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন শফিউল।
ঘটনার তিন দিন পর ১০ জুলাই পাকুন্দিয়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দীন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় ২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২৮ নভেম্বর মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে ২৪ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ১৯ জন নিহত হন। মারা যাওয়া আসামিদের বাদ দিয়ে ২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আদালতে পাঁচ জনের নামে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি আছেন এই পাঁচ জন।









