মৃত্যুর সঙ্গে পাঁচদিন লড়াই করে অবশেষে মারা গেলেন স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ শিরিনা আক্তার (২৪)। রবিবার বিকাল ৪টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শিরিনা আক্তারের পিতা সায়েম উদ্দিন এ তথ্য জানান।
শিরিনার বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরকাওনা নতুনবাজার এলাকার সায়েম উদ্দিনের মেয়ে ও একই উপজেলার হরশী গ্রামের রুবেল মিয়ার (৩৩) স্ত্রী।
সায়েম উদ্দিন জানান, প্রায় পাঁচবছর আগে শিরিনার সঙ্গে রুবেলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে রুবেল ও তার বড় ভাই জুয়েল মিয়া (৩৫), ছোট ভাই খায়রুল মিয়া (২৮) যৌতুকের জন্য শিরিনাকে প্রায়ই নির্যাতন করে আসছিলেন। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে একাধিকবার সালিশও হয়।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় রুবেল ও তার দুই ভাই স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক বাবদ ১ লাখ টাকা আনতে বলেন। শিরিনা টাকা আনতে অস্বীকার করলে তিন ভাই মিলে তাকে মারধর করে। পরে রুবেল ও তার ভাইয়েরা শিরিনার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে স্বামী ও ভাইয়েরা পালিয়ে যায়। পরে লোকজন শিরিনাকে রাতেই কিশোরগঞ্জ সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেদিন রাতেই তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তার শরিরের ৮০ ভাগ পুড়ে যায়। রবিবার বিকালে পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে তার মৃত্যু হয়।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন জানান, এ ব্যাপারে রবিবার রাত সাড়ে ৮টায় শিরিনার পিতা সায়েম উদ্দিন বাদী হয়ে স্বামী রুবেল, দুই ভাই জুয়েল ও খায়রুলের বিরুদ্ধে পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা পলাতক, তবে তাদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
/এআর /এএইচ/








