বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির ও মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘আমরা পিআর সিস্টেমে (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) নির্বাচন চাই। এই সিস্টেমে নির্বাচন হলে পেশিশক্তি ও টাকা দিয়ে ভোট কিনতে পারবে না। মার্কায় ভোট হবে ব্যক্তি কেন্দ্রিক ভোট হবে না। যে দল যত পারসেনটেজ ভোট পাবে সেই দলের প্রতিনিধি তত সংখ্যক অনুপাতে সংসদে থাকবে। এতে সবগুলো দলের প্রতিনিধি সংসদে যেতে পারবে। সারা বাংলাদেশের মানুষের সরকার হবে। সমস্ত জনগণের প্রতিনিধি সংসদে থাকবে। তখন গণমানুষের সংসদ হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে পিআর সিস্টেমে নির্বাচন দেখতে চাই। এই সিস্টেমে দলের সৎ, যোগ্য ও ভালো ব্যক্তিদের বেছে বেছে সংসদে যাওয়ার অনুমতি দেবে দল। যাতে অসৎ ব্যক্তিরা নেতৃত্ব না পায়, সংসদে যেতে না পারে। এতে করে জুলুম, দুর্নীতি, অনিয়ম বন্ধ হবে।’
শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বিকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি এলাকায় ইসলামী আন্দোলনের গণসমাবেশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইসলামী আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে ফয়জুল করীম বলেন, ‘চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। ৫ আগস্টের পরে আমরা দেখেছি, সেই চিহ্নিত গোষ্ঠী আবার চাঁদাবাজি শুরু করেছে, দখলদারি শুরু করেছে। আমরা এসব চাঁদাবাজদের দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় দেখতে চাই না। চাঁদাবাজ মুক্ত, সন্ত্রাস মুক্ত ও জুলুম মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই। যারা দোষী, চিহ্নিত খুনি ও অপরাধী তারা কোনও অবস্থাতেই নির্বাচন করতে পারবে না।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ভালো করে মনে রাখতে হবে, যদি আপনারা বৈষম্য সৃষ্টি করেন তাহলে এ দেশে আবারও আন্দোলন হবে। আবারও এদেশের মানুষ রাস্তায় ঝাঁপিয়ে পড়বে। এ জন্য সতর্ক অবস্থায় দেশ পরিচালনা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি সমস্ত খুনি, জালেম ও অন্যায়কারীদের বিচার চাই। কিন্তু অপমান চাই না। জুলুম চাই না। বিচার হবে, তবে অপমানের প্রয়োজন নেই। এভাবে আমরা যদি সবাইকে আক্রমণ করি অত্যাচার করি, তাহলে আগের সরকারের সঙ্গে এই সরকারের পার্থক্য কোথায় রইলো? আজকে যদি আমরা জুলুম করি তারাও এক সময় জুলুম করবে। তাই আমাদেরকে এক জায়গায় থামতে হবে। সবাই মিলে মিশে এ দেশকে গড়ে তুলতে হবে।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- দলটির মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, ইসলামী আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ, জেলার সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ দ্বীন ইসলামসহ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধানত, দুটি ব্যবস্থা বিদ্যমান। প্রথমতঃ একটি নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থীদের মধ্যে যিনি সর্বোচ্চ ভোট পাবেন তিনি নির্বাচিত হবেন। এই পদ্ধতিকে বলা হয়- First past the post system. নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় যে ব্যবস্থাটি প্রচলিত তা হলো- সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা বা Proportional representation system. এই পদ্ধতিতে একটি দল যে পরিমাণ ভোট পাবে সেই অনুপাতের ভিত্তিতে তাদের প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ হবে। অনেক দেশে এই দুটি পদ্ধতির সমন্বিত ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।









