টাঙ্গাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিতে স্কুলছাত্র মারুফ মিয়া নিহতের ঘটনায় সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম (টিটু), সাবেক আট সংসদ সদস্যসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে।
মামলায় আব্দুর রাজ্জাককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও ১৫০-২০০ জনকে আসামি করা হয়। রবিবার রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলাটি করেন নিহত মারুফ মিয়ার মা মোর্শেদা বেগম। নিহত মারুফ বাসাইল উপজেলার জশিহাটী গ্রামের প্রবাসী মজনু মিয়ার ছেলে। তার পরিবার শহরের সাবালিয়া এলাকায় বসবাস করে।
সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন। তিনি বলেন, ‘নিহত স্কুলছাত্রের মা মোর্শেদা বেগম বাদী হয়ে ৫৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ বৈহাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগের পর টাঙ্গাইল শহরে বিজয় মিছিল বের করা হয়। মিছিলে শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারুফ মিয়া অংশ নেয়। মিছিলটি শহরের মদের মোড় এলাকায় গেলে আসামিরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় মারুফ প্রাণ বাঁচাতে শহরের সিটি ব্যাংকের দোতলায় গিয়ে আশ্রয় নিলে আসামিরা গুলি করলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাকে শিক্ষার্থীরা উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এই মামলায় আব্দুর রাজ্জাক ছাড়াও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল ইসলাম আলমগীর, টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, তার ভাই শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনির, সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, কালিহাতী আসনের সাবেক এমপি হাসান ইমান খান সোহেল হাজারী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুজ্জামান সোহেল, টাঙ্গাইল সদর আসনের সাবেক এমপি ছানোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, মির্জাপুর আসনের সাবেক এমপি খান আহম্মেদ শুভ, টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদ, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, বাসাইল-সখীপুর আসনের সাবেক এমপি অনুপম শাহজাহান জয়, জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক খোরশেদ আলম, টাঙ্গাইলের বিবেকানন্দ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি আনন্দ মোহন দে, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন, জেলা যুবলীগের সভাপতি মাসুদ পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইম বিপ্লব, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনসহ ৫৬জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া আরও ১৫০-২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।









