বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিএনপি ও সমমনা দলের আন্দোলনের ফসল। গত ১৬ বছর যারা শেখ হাসিনা-বিরোধী শক্তি হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, পরবর্তীতে আমাদের ছাত্র-জনতা আন্দোলন করে সেই ফসল ঘরে তুলেছেন।’
বুধবার (২১ আগস্ট) বিকালে মুন্সীগঞ্জ শহরের সুপার মার্কেট এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আলোচনা ও কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
রাষ্ট্রের প্রত্যেক স্তরে সংস্কারের প্রয়োজন আছে উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘আমরা চাই, পুলিশ এদেশের জনগণের পুলিশ হবে। কোনও দলের পুলিশ নয়। প্রশাসন হবে রাষ্ট্রের, কোনও দলের নয়। এসব কাজ করার জন্য দেশের প্রত্যেক খাতে সংস্কার দরকার আছে। বর্তমান সরকারকে আমরা সহযোগিতা করবো। প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংস্কার খুব বেশি জরুরি। ডিসি-এসপি, ইউএনও এবং এসিল্যান্ডদের রাজনৈতিক দলের তাবেদার না হয়ে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে।’
একই সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে জনতার আদালতে বিচার করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর বহু দেশে শেখ হাসিনা আশ্রয় চেয়েছেন। কোনও দেশ আশ্রয় দেয়নি। দিয়েছে ভারত। যে ভারতের কাছে শেখ হাসিনা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতে চেয়েছেন। শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ যাদের নির্দেশে গত ১৬ বছর দেশে গুম-খুন হয়েছে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান রতনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ববুল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটু এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ।
সভা শেষে মুন্সীগঞ্জ শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন বিএনপির নেতারা। এ সময় দলের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নিহত তিন জনের পরিবারকে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত: গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে শহরের সুপার মার্কেট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন উত্তর ইসলামপুর এলাকার মতিন ফরাজির ছেলে রিয়াজুল ফরাজি, আলী আকবরের ছেলে মোহাম্মদ সজল ও সিরাজ সরদারের ছেলে ডিপজল।









