নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গাজী টায়ার কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এদিকে এখনও অপেক্ষা করছেন নিখোঁজদের সন্ধানে আসা স্বজনরা। সোমবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন নির্বাপণ হয়নি।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলে আগুন ছড়ানোর সম্ভবনা নেই। তবে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করতে আরও সময় লাগবে। ভেতরে অনেক দাহ্য পদার্থ আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আগুন নির্বাপণ সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত আমাদের উদ্ধারকাজ চলবে। আর ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তা ছাড়া এই এই ভবনের আশপাশে কেমিক্যাল ও বিস্ফোরকজাতীয় পদার্থ থাকতে পারে।’
এর আগে, রবিবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার রূপসীতে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এবং গাজী গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম দস্তগীর গাজীকে গ্রেফতারের পর থেকে কারখানাটিতে লুটপাট শুরু করে দুর্বৃত্তরা। রাতে আগুন লাগার সময়ও লুট করতে গিয়ে অনেকে ভেতরে আটকা পড়েছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা তাদের উদ্ধার করে।
এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের তথ্য ও ছবি নিয়ে অনেক লোকজন কারখানার সামনে জড়ো হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন সদস্য সেই নিখোঁজদের তালিকা করেছে।
ছেলে সজীবের খোঁজে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কুলসুম বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছি না। সে গতকাল এখানে এসেছিল।’ এভাবে আরও অনেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নিখোঁজ স্বজনদের তালিকায় নাম লেখাচ্ছেন।
সকালে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘রাতে গাজী টায়ার কারখানায় আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা কাজ শুরু করি। কারখানার কাঁচামাল রাবার প্লাস্টিক হওয়ায় আগুন পুরো ফ্যাক্টরির চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট কাজ করছে। এখান থেকে ১৪ জনকে উদ্ধার করতে পেরেছি। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা কেউ এই কারখানার শ্রমিক বা কর্মচারী নন। এরা খুব সম্ভবত এখানকার মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য এসেছিলেন। আমরা এখনও নিখোঁজের সংবাদ পাইনি। তবে এই আগুন নাশকতা কি না, তা তদন্ত করে বলতে হবে।’









