দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম যমুনা সেতুর টোল আদায় ও পরিচালনা কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করা হয়েছে। দরপত্র আহ্বানের পর সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন কোম্পানি প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে ২০.২১ শতাংশ টাকা সাশ্রয়ে পাঁচ বছর সেতুর টোল আদায় ও পরিচালনার দায়িত্ব পায়। বিষয়টি জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) আলতাফ হোসেন শেখ।
শনিবার (৩১ আগস্ট) দিনগত রাত ১২টা থেকে তাদের কার্যদিবস শুরু হয়। আগামী পাঁচ বছর তারা নিজস্ব জনবল দিয়ে টোল আদায় ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কার্যদিবসের প্রথম দিনেই যানবাহন দ্রুত পারাপার করার জন্য ফাস্ট ট্যাকের একটি বুথ থেকে বাড়িয়ে সাতটি বুথে এ সিস্টেম চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিয়োগের পর রবিবার দুপুরে যমুনা সেতু পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সেতুর প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ৭৪ কোটি ৭৫ লাখ ২৯ হাজার ৬২১ টাকা এবং সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ঠিকাদারি কোম্পানিকে ৫৯ কোটি ৬৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫০৪ টাকা মূল্যে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এতে প্রাক্কলিত মূল্য থেকে বাংলাদেশ সরকারের ১৫ কোটি ১১ লাখ ৩৩ হাজার ১১৭ টাকা সাশ্রয় হবে। নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব জনবল দিয়ে টোল আদায় ও অন্যান্য কাজ পরিচালনা করবে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের যমুনা সেতুর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘১৫ কোটি টাকা সাশ্রয়ী হলেও টোল কমানোর কোনও সুযোগ নেই। সরকার নির্ধারিত টোল আদায় করতে হবে। ডিজিটাল সফটওয়্যারের মাধ্যমে টোল আদায় করা হবে। টোলপ্লাজায় কোনও যানজট সৃষ্টি হয় না। অনেক সময় অতিরিক্ত গাড়ি টোলপ্লাজায় চলে আসায় একটু সমস্যা হয়। সেটা বেশিক্ষণ থাকে না।’
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক আলতাফ হোসেন শেখ বলেন, ‘ইতোমধ্যে কার্যাদেশ পেয়ে শনিবার রাত ১২টার পর থেকে নতুন কোম্পানি টোল আদায় শুরু করেছে। প্রাক্কলিত মূল্য থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা সাশ্রয়ে মূল্যে পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে তারা। এই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা এবং সফটওয়্যারের মাধ্যমে টোল আদায় করা হবে। এতে দ্রুত সময়ের মধ্যে গাড়ি পারাপার করা যাবে। এখানে অনলাইনে টোল দিয়ে যাতায়াতের জন্য প্রত্যেকটা লাইনে ব্যবস্থা থাকবে। ব্যবহারকারী যদি টোল কালেকশন সিস্টেমে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেন, তাহলে টোল পারাপারের সময় তারা অনলাইনে টোল দিতে পারবেন। টোল সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাবে। এতে কোনও ট্রাফিক জ্যাম হবে না। একদিকে সরকারের ১৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে, অন্যদিকে জনগণও কম সময়ে টোল দিতে পারবে।’
প্রসঙ্গত, ২০১৮ থেকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃৃপক্ষ ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত যমুনা সেতুর টোল আদায় ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল। দীর্ঘ ছয় বছর পর নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিলো সরকার।









