গাজীপুরের শ্রীপুরের পোশাকশ্রমিক স্বপ্না বেগমের দুই লাখ টাকা উদ্ধার করে দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। নিজের সঞ্চয়ের টাকাগুলো হাতে পেয়ে আনন্দে কেঁদেছেন এই নারী।
স্বপ্না বেগম শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সোনাকর গ্রামের কামাল মিয়ার স্ত্রী। সোমবার (০২ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলা ডাকঘরের পোস্টমাস্টারের কাছে সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে জমানো টাকাগুলো উদ্ধার করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও প্রতিনিধিরা।
পোশাকশ্রমিক স্বপ্না বেগম বলেন, ‘উপজেলা ডাকঘরে পারিশ্রমিকের টাকা বিভিন্ন সময় সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে জমা করতাম। নির্দিষ্ট মেয়াদে সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে লভ্যাংশ পেতাম। সর্বশেষ দুই লাখ টাকার বিপরীতে চলতি বছরের জুন মাসের শেষের দিকে লভ্যাংশ দেওয়া হলেও মূল টাকা না দিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে দেন পোস্টমাস্টার। ডাকঘরের ব্যাংক হিসাবে টাকা নেই বলে পরবর্তীতে দেখা করার কথা বলে আমাকে বিদায় করে দেন তিনি। কয়েকদিন পর টাকা নিতে গেলে স্বাক্ষর করা সাদা কাগজে কিছু লেখা দেখিয়ে পোস্টমাস্টার বলেন, টাকা তো আগেই নিয়ে গেছেন। এমন কথা শুনে পোস্টমাস্টারের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ি। এরপর বেশ কয়েকবার ডাকঘর ও থানায় গিয়েও কোনও সমাধান পাইনি।’
কোনও উপায় না পেয়ে গত ২১ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের বিষয়টি জানিয়েছি উল্লেখ করে স্বপ্না বেগম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিয়ে ওই প্রতিনিধিরা পোস্টমাস্টারের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানতে চান। তখন তাদের সঙ্গে পোস্টমাস্টারের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে যুক্তিতে না পেরে দুই লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বললে বিষয়টির সামাধান হয়। পরবর্তীতে যোগাযোগ করলে পোস্টমাস্টার তা দিতে আবার অস্বীকৃতি জানান। সোমবার দুপুরে শ্রীপুর থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের মিছিল দেখে তাদের বিষয়টি আবারও জানাই। তখন তারা পোস্টমাস্টারের কাছে গেলে দুই লাখ টাকা বের করে দেন। ওই টাকা আমার হাতে তুলে দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা। তাদের কাছে আমি কতৃজ্ঞ।’
পোস্টমাস্টারের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের সময় উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা প্রতিনিধি শ্রাবণ, সারা, সৌমিক, আরাফাত, মিলন, শান্ত, প্রান্ত, নাবিদ, আরিফ, মেরাজ ও জিতু। শ্রাবণ ও সারা জানিয়েছেন, এই কাজটি তাদের না হলেও মানবিক কারণে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে শ্রীপুর উপজেলা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার ফাইজুদ্দীনকে একাধিকবার কল দিয়ে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।









