গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সাব্বির আহমেদ (২০) নামের এক যুবককে কুপিয়ে ১০তলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার সফিপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাব্বির উপজেলার আন্ধারমানিক এলাকার লিটন মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় সাব্বিরের বড় ভাই আবির হোসেন বাদী হয়ে মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিয়াকৈর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এতে সাব্বিবের দুই বন্ধুর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন-চার জনকে আসামি করা হয়েছে। দুই আসামি মো. রাকিম (২১) ও মো. সাকিব (২১) যমজ ভাই। তারা উপজেলার সফিপুর এলাকার আব্দুর রহিম মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্র ও এজাহারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সোমবার বিকালে রাকিব, সাকিব ও সাব্বির একসঙ্গে একটি জিমে যান। সেখান থেকে সন্ধ্যার দিকে ফিরে তিন বন্ধু রাকিব-সাকিবের বাসা সফিপুর এলাকার ইউনিক টাওয়ারের ছাদে আড্ডা দিতে ওঠেন। তাদের সঙ্গে আরও দুই বন্ধু করণ ও সোহান ছিলেন। করণ ও সোহানকে মুড়ি কিনতে দোকানে পাঠান রাকিব-সাকিব। তারা মুড়ি নিয়ে দোকান থেকে ফেরার পথে ইউনিক টাওয়ারের নিচে ভিড় দেখে এগিয়ে গিয়ে সাব্বিরকে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত তারা ছাদে গিয়ে সাব্বিরের কাটা নখ ও রক্তমাখা অস্ত্র পড়ে থাকতে দেখেন। কিন্তু রাকিব-সাকিব সেখানে ছিলেন না। স্থানীয়রা সাব্বিরকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর থেকে রাকিব ও সাকিব পলাতক রয়েছেন। তাদের ফ্ল্যাট তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা গেছে।
নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ইউনিক টাওয়ারের নয়তলার বাসিন্দা আব্দুর রহিম মিয়ার যমজ দুই ছেলে রাকিব-সাকিব তাদের বন্ধু সাব্বিরকে নিয়ে ছাদে আড্ডা দিচ্ছিলেন। আগে থেকেই ছাদে থাকা দুই বন্ধুকে তারা নিচে মুড়ি কিনতে পাঠিয়ে দেন। পরে চাপাতি দিয়ে সাব্বিরকে কুপিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল ফজল মো. নাসিম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। ওই ভবনের ছাদ থেকে একটি মোবাইল, ধারালো অস্ত্র ও নিহতের একটি কাটা আঙুল উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘বন্ধুদের মধ্যে কোনও কিছু নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় সাব্বিরকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’









