মুন্সীগঞ্জে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ইব্রাহিম হোসেন রিফাত। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দিনগত রাত ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার উত্তর ইসলামপুর ফরাজীবাড়ি ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রিফাত মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মোল্লারচর এলাকার নয়ন হোসেনের ছেলে। বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ইব্রাহিম হোসেন রিফাত বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে আমার নিজ এলাকা মোল্লারচর থেকে কালিদাস সাগরের ওপর নির্মিত কাঠের সাঁকো পার হয়ে উত্তর ইসলামপুরের ফরাজী বাড়ি প্রান্তে আসি। এ সময় সেখানে থাকা ২ ব্যক্তি- ‘‘ওই তোদের বাড়ি মোল্লারচর না’’ বলেই ধারালো ছুরি দিয়ে আমার ওপর হামলা করে। তারা আমার পেটে আঘাতের চেষ্টা করলে হাত দিয়ে প্রতিরোধ করতে গিয়ে ডান হাতে ছুরিকাহত হই। তাদের সঙ্গে পিস্তলও ছিল। তারা আমাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। বলে- পিস্তলে থাকা ছয়টি গুলি দিয়ে হত্যা করবো।’
তিনি বলেন, ‘উত্তর ইসলামপুর এলাকার সাথে পার্শ্ববর্তী মোল্লারচর এলাকার দীর্ঘদিন ধরে এলাকাগত বিরোধ আছে। আমার ধারণা সেই বিরোধের জেরে এই হামলা হয়েছে। আবার হতে পারে আমি ছাত্র আন্দোলনের কর্মী- এই ক্ষোভও তাদের মধ্যে থাকতে পারে। পুরো বিষয়টি আসলে তারা ধরা পড়ার পরে বলা যাবে।’
এ ঘটনায় উত্তর ইসলামপুর এলাকার দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইব্রাহীম হোসেন রিফাত। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শৈবাল বসাক জানান, রিফাতের ডান হাতের কবজিতে ছুরি দিয়ে আঘাত করায় রগ কেটে যায়। মুন্সীগঞ্জে এ চিকিৎসক ব্যবস্থা না থাকায় তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ইব্রাহিম নিরব জানান, গতকাল রাতে সে বাসা থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছিল। বাসায় ফেরার পথে উত্তর ইসলামপুর এলাকায় তার বাসা থেকে কিছুটা দূরে অতর্কিতভাবে দুই জন তাকে হামলা করে এবং প্রথমে পিস্তল ঠেকায়। পিস্তল দেখে সে পালাবার সময় তাকে ধরে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করতে গেলে তার হাতে লেগে হাতের রগ কেটে যায়। পরিচিত যারা আছে তারা খবর পেয়ে তাকে ফার্মেসিতে নিয়ে যায়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তাকে ঢাকায় পাঠায়। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সকালে তাকে রিলিজ দেওয়া হয়। ঘটনাটি জানার পর আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারা বলেছেন অতি দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন এবং এই ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করবেন। তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুন্সীগঞ্জে সক্রিয় ছিলেন, আমি তাকে চিনি।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজিব দে বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।








