নারায়ণগঞ্জে ছুরিকাঘাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. ওয়াজেদ সীমান্ত (২০) হত্যার ঘটনায় মোহাম্মদ আকাশ খান ওরফে সাইদুর রহমান আকাশ (৩৬) নামে আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে এই মামলায় মোট দুজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার আকাশ শহরের কাশিপুর এলাকার ওমর খানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাইসহ ১১টি মামলা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই মামলায় এখন পর্যন্ত দুজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল রাতে আকাশ নামে আরেক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই, চুরিসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তার বিরুদ্ধে আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। এর আগে, অনিক (২৮) নামে আরেক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই আসামি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে কীভাবে শিক্ষার্থী সীমান্তকে ছুরিকাঘাত করেছে সেই বর্ণনা আমাদের কাছে দিয়েছে। তার বিরুদ্ধেও ৮টি মামলা রয়েছে।’
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) ভোরে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ছাত্র ওয়াজেদ সীমান্ত তার দেওভোগের বাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ৬টার দিকে বাড়ির পাশের ডিআইটি আলী আহাম্মদ চুনকা পাঠাগারের সামনে দুর্বৃত্তরা ওয়াজেদকে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও ১ হাজার ৮০০ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত ওয়াজেদকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওয়াজেদের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত ওয়াজেদের বাবা মো. আলম পারভেজ বাদী হয়ে গত রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অনিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে লুট হওয়া মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়।









