চাপিলা নামে বিক্রি হচ্ছে জাটকা!

জহিরুল ইসলাম খান, মাদারীপুর
২৯ মার্চ ২০১৬, ১১:০২আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৬, ১১:০২

জাটকা

‘চাপিলা মাছ বলে, ইলিশের বাচ্চা অর্থাৎ জাটকা দেদারসে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। আমি বললাম এটা তো জাটকা, চাপিলা মাছ না। মাছ বিক্রেতা আমার সঙ্গে তর্ক জুড়ে দিলেন। তার দাবি, এই মাছ আর জাটকা এক না। খাইতে এই মাছেও ইলিশের ঘ্রাণ লাগে।’ কথাগুলো বলছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের আজিজুল খান।

ওই এলাকার অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাছ বিক্রেতারা জাটকা চাপিলা নামে বিক্রি করছেন। স্থানীয়দের ধারণা, বর্তমানে জাটকা ধরা ও বিক্রি সম্পূর্ণরূপে অবৈধ হওয়ায় মাছ ব্যবসায়ীরা নতুন এ পথ বের করেছেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের পাশ দিয়ে প্রবাহিত আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে দেদারসে জাটকা মাছ ধরা হচ্ছে। সাধারণত সন্ধ্যার পর নৌকায় বাতি জ্বালিয়ে কারেন্টজাল দিয়ে জাটকা ধরা হয়। একইভাবে মাছ ধরা হচ্ছে পাঁচখোলা ইউনিয়নের কাজীরটেক এলাকাতেও। এছাড়া চরমুগুরিয়া ও টেকেরহাটে কুমার নদের একাধিক স্থানে ধরা হয় জাটকা। জেলার শিবচর উপজেলার পদ্মায় অহরহ ধরা হচ্ছে জাটকা। আর এই মাছও চাপিলা নামে বিক্রি হয় স্থানীয় হাট-বাজারে।

চাপিলা নামে জাটকা বিক্রি

আড়িয়াল খাঁ নদের অপরপাড়ে ধুরাইল ইউনিয়ন। চরাঞ্চলবেষ্টিত এই ইউনিয়নের চাছার গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেম মাতুব্বর আক্ষেপ করে বলেন, ‘আড়িয়াল খাঁ নদে ছোট মাছ ধরা হচ্ছে তা দেখে দুঃখ লাগে। আল্লাহ নদীতে মাছ কি দেওয়া দিছে? কারেন্ট জাল দিয়া এত মাছ ধরা হয় যে জাল সাদা হইয়া যায়। এই মাছ থাকলে আমাদের দেশে ইলিশের অভাব হইতো না। এত সুন্দর মাছ দেখলে মায়া লাগে।’

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত মা ইলিশ মাছ সাগরের লোনা পানি থেকে মিঠা পানিতে ডিম ছাড়তে আসে। এ কারণে প্রতি বছর এই সময়টা পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদে ৯ ইঞ্চির নিচে জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করে প্রশাসন। কিন্তু প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এক শ্রেণির অসাধু নদীতে জোড়া আড়াআড়ি গাড়া বাঁধ, ঘের, বেড়া বাধ দিয়ে জাটকা ও ছোট মাছ নিধন করে।

মাদারীপুরের পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন পরিষদের আহ্বাবায়ক বশীর আহম্মদ বলেন, জাটকা বিক্রেতাকে আটক করে জরিমানা করা এবং হাট-বাজারে ঢোল পিটিয়ে ও মাইকিং করে জাটকা বিক্রি বন্ধের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। হাট-বাজারে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে জাটকা। সংশ্লিষ্টরা দু-একবার অভিযান চালালেও স্থানীয় কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। এ জন্য আরও সচেতনামূলক কর্মকাণ্ড চালানো উচিত।

জাটকা

মাদারীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আকতারুল হক বলেন, চাপিলাসহ ইলিশের মত এ ধরনের ৪ প্রজাতির মাছ ধরাই এই সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চাপিলা তো ওঠে না, হাট-বাজারে এখন জাটকাইতো ওঠে। জেলেরাও চাপিলাকে জাটকা হিসেবে বোঝাতে চায়। জাটকার মধ্যে ইলিশের গন্ধ আছে, চাপিলার গন্ধ নাই। চাপিলার গাছে ছোট দাগ আছে আর আঁশ অনেক। জাটকায় ৩০ থেকে ৩৫টি আঁশ। জাটকার চোখ ছোট আর চাপিলার চোখ বড়। চাপিলার পেট চওড়া হয়, জাটকার পেট চিকন হয়। চাপিলা চার-পাঁচ ইঞ্চির বেশি হয় না।

তিনি আরও বলেন, এখন যা বিক্রি হয় তা জাটকাই। কারণ চাপিলা অক্টোবরে হয় এবং তখনই বেশি পাওয়া যায়। যে কোনও বাজারে বিক্রি হতে দেখলেই প্রতিহত করা উচিত। শহরের কয়েকটি বাজারেও বিক্রি হয়। তবে গ্রাম এলাকাতেই জাটকা বিক্রি হয় বেশি।

 

/এসটি/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
জনগণকে বিভ্রান্তকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
জনগণকে বিভ্রান্তকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
‘পাঁচ বছরে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব’ 
‘পাঁচ বছরে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব’ 
অবশেষে মাকে নিয়ে সুখবর পেলেন ভোজিনহা
অবশেষে মাকে নিয়ে সুখবর পেলেন ভোজিনহা
‘তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণে কারিগরি ও আর্থিক বিষয় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে’
‘তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণে কারিগরি ও আর্থিক বিষয় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে’
সর্বাধিক পঠিত
সরকারি প্রতিষ্ঠানে বড় পদে আফরোজা আব্বাস, প্রজ্ঞাপন জারি
সরকারি প্রতিষ্ঠানে বড় পদে আফরোজা আব্বাস, প্রজ্ঞাপন জারি
সংসদে বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে নারী এমপির বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা
সংসদে বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে নারী এমপির বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা
রেলে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও ১০ জেলা: রেলপথমন্ত্রী
রেলে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও ১০ জেলা: রেলপথমন্ত্রী
পাঁচ তারকার স্মরণীয় একদিন
পাঁচ তারকার স্মরণীয় একদিন
‘বাক্সের কাঁকড়া’: যে কারণে নিজের পরিবারই আপনার উন্নতিতে অখুশি!
‘বাক্সের কাঁকড়া’: যে কারণে নিজের পরিবারই আপনার উন্নতিতে অখুশি!