আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তার লোকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী বাদল ভদ্রকে (৩৮) হাতুড়ি পেটা করে গুরুতর আহত করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উরফি ইউনিয়নে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বুধবার বিকেল ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার ওই ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাদল ভদ্র ওই গ্রামের বলরাম ভদ্রের ছেলে ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল গাজীর কর্মী।
বাদল ভদ্রকে গোপালগঞ্জের আড়াই শ' শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বাদল ভদ্র অভিযোগ করে বলেন, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমি নলকূপ স্থাপন প্রকল্পের জন্য টাকা নিয়ে গোপালগঞ্জ শহরের বিএডিসি অফিসে যাচ্ছিলাম। পথে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মনির গাজীর ছোট ভাই হিজবুল্লাহ গাজীসহ আরো কয়েকজন আমাকে মারধর করে। এ সময় আমার কাছ থেকে নলকূপের ২৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। আমার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল গাজীর ভোট কেনার অভিযোগ করেন তারা। পরে আমাকে ওই বাড়িতে আটকে রেখে প্রশাসনকে খবর দেয়। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আমাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ ঘটনার পর আমি বাড়ি ফেরার পথে মনির গাজী,তার ভাই হিজবুল্লাহ গাজী, কালাম গাজী, সাগর গাজীসহ অর্ধশতাধিক লোক আমাকে ঘিরে ধরে হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আমি গোপালগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে ওসি অভিযোগ না নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সুস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন।
উরফি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল গাজী জানিয়েছেন, মনির গাজীর দাপটে আমি নিজেই এলাকা ছাড়া। আমার কর্মী-সমর্থকরা টাকা দিয়ে ভোট কেনার সাহস পাবে কোথায়?
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. সেলিম রেজা জানিয়েছেন, বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছি। আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক কামরুল ইসলাম মারধরের ঘটনা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত শেষ করে আসার পর সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে মারধর করা হয়েছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তখন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত উরফি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মনির গাজী জানান,ভ্রাম্যমাণ আদালত শেষ হওয়ার পর আমি বা আমার কেউ বাদল ভদ্রকে মারপিট করিনি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের আগে আমার ছেলেরা তাকে কয়েকটি কিল-ঘুষি মেরেছিল।
/জেবি/







