ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় জামায়াতের এক নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার তালমা ইউনিয়নের কদমতলী সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে। আহত জামায়াত নেতার নাম আলমগীর শেখ (৩৬)। তিনি কদমতলী গ্রামের হালিম শেখের ছেলে।
উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ‘আহত আলমগীর শেখ তালমা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। আমরা এ হামলার ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছি। সেইসঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।’
ভুক্তভোগী নেতার দাবি, বিএনপিকে ভোট দিতে রাজি না হওয়ায় এবং জামায়াতে ভোট দিতে চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়। তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। প্রতিপক্ষের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হামলা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীর শেখ জানান, জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা শেষে বুধবার রাতে তিনি বাজার থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। কদমতলী সেতুর কাছে এলে কদমতলী গ্রামের রত্তন মোল্লার ছেলে রাশেদ মোল্লা ও নয়ন শেখের ছেলে মিলন শেখ তার পথ আটকান। তারা তাকে বলেন, ‘তোর কাজকর্ম সুবিধার মনে হচ্ছে না, তোকে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।’ তখন তিনি অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, তিনি জামায়াত করেন এবং ভোট তাদের জোটের প্রার্থীকে দেবেন। এতে ওই ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত শরিফ বলেন, ‘হামলা হয়েছে সত্য। তবে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। আলমগীরের সঙ্গে প্রতিপক্ষের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।’
ঘটনার পর রাতেই আহত আলমগীরকে দেখতে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থী শাহ আকরাম আলী ও উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন।
সোহরাব হোসেন বলেন, ‘যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য এ ঘটনা না ঘটে, তাহলে বিএনপি নেতা শওকত শরিফ দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবি কেন জানাচ্ছেন না? যারা আলমগীরের ওপর হামলা করেছেন, তারা আগে আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন, বর্তমানে বিএনপিতে যোগ দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলাসহ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’
এ ব্যাপারে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রসুল সামদানি আজাদ বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। পরে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









