বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও গোপালগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সেলিমুজ্জামান সেলিমের বিরুদ্ধে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাসিন্দা মো. শামীম ইসলাম রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) অভিযোগটি দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, সেলিমুজ্জামান সেলিম মামলাবাজ, চাঁদাবাজ এবং দখলবাজ। তিনি গোপালগঞ্জ-১ আসনে অন্তত ২০ হাজার মানুষকে মামলার জালে ফাঁসিয়েছেন। তার রোষানলে পড়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। চাঁদা না দেওয়ায় অনেককে দেশছাড়া করেছেন। গোপালগঞ্জ-১ আসনে অনেক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করেছেন। সাবেক অ্যাডিশনাল আইজি মনিরুল ইসলামের অবৈধ সম্পদ রক্ষা করছেন। মনিরুল ইসলামের সব অবৈধ সম্পদ তার জিম্মায় আছে। আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপির সব গোপন তথ্য সেলিম পুলিশের সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামের কাছে ফাঁস করতেন। কেউ নিজের মতের বাইরে গেলে তাকে মনিরকে দিয়ে গ্রেফতার করাতেন। আওয়ামী লীগের পতনের পর টাকার বিনিময়ে সরকারি অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তার পোস্টিংয়ের তদবির করেন। অনেক কর্মকর্তাকে ফোন দিয়ে পোস্টিং করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। দলীয় ফান্ডের কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। ঢাকায় নিজ বাসায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী ও কিছু অপরাধীকে আশ্রয় দিয়েছেন। এখন তাদের দলে ভিড়াচ্ছেন।
শামীম ইসলাম অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করেন, গোপালগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা দিদার হত্যা মামলা, এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় কয়েকটি মামলায় প্রায় ২০ হাজার লোককে আসামি করে তাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন। তবে মূল আসামিকে না ধরিয়ে নিরপরাধ লোকদের হয়রানি করেছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে সেলিমকে চূড়ান্ত মনোনয়ন না দেওয়ায় গুলশানে বিএনপি অফিসের সামনে শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর ও তার ছেলের ওপর হামলা করেন সেলিমের লোকজন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন জাহাঙ্গীরের ছেলে। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বেদখল ফ্ল্যাট, জমি, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সন্ত্রাসীদের দিয়ে টাকার বিনিময়ে দখল করে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে পল্টন ও মগবাজারে একাধিক লোকের ফ্ল্যাট, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটি সংঘবদ্ধ আদম ব্যবসায়ী চক্র গড়ে তুলেছেন সেলিম। চোরাই গাড়ির ব্যবসা পরিচালনা হয় তার নামে। কাকরাইলে একটি চোরাই গাড়ি বিক্রির প্রতিষ্ঠান সেলিমের নামে চলে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, জনপ্রতিনিধি না হয়েও পুলিশ প্রটোকলে গোপালগঞ্জে চলাফেরা করেন সেলিম। কাশিয়ানী-মুকসুদপুরের ইউএনও-ওসিকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দিয়ে গ্রামের বাড়িতে বসিয়ে রাখেন। গোপালগঞ্জের ডিসি-এসপিকে অন্যায় আবদার পূরণে বাধ্য করেন। বৃহত্তর ফরিদপুরে বাস-গাড়ি থেকে চাঁদা আদায়, খাস জমি দখল, বাজার থেকে চাঁদা উত্তোলন, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় নিজ কর্মীদের দিয়ে অবৈধভাবে দোকান বসিয়েছেন। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ বৃহত্তর ফরিদপুরের মানুষ।
তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে অভিযোগে আরও বলা হয়, গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের বিএনপিতে যোগদান করিয়ে দলকে কলুষিত করছেন। সদর থানা বিএনপির সভাপতি সহিদুল ইসলাম লেলিনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সাবেক পিএস গাজী হাফিজুর রহমান লিকু ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন মামলায় জমিনের ব্যবস্থা করাসহ অব্যাহতি পেতে বিশাল অঙ্কের লেনদেন হওয়ায় দুদকের অনুসন্ধান থেকে শুরু করে তাদের সব কিছু থেকে রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন। মুকসুদপুরের দাসের হাটের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা নিয়েছেন। সেবা গ্রীন লাইনের মালিক কে এম মাসুদুর রহমান মাসুদের কাছ থেকে ২৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে সেবা গ্রীন লাইন ও সিএজি ফিলিং স্টেশনের উন্নয়নকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। সেলিম কাশিয়ানী এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজসহ কয়েকটি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি এবং তার স্ত্রী সাবরিনা বিনতে আহম্মদ জয়নগর ইয়ার আলী খান ডিগ্রি কলেজের সভাপতি। এসব নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় সেলিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আপনার (প্রধান উপদেষ্টা) হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সেলিমুজ্জামান সেলিমকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। এ জন্য তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।









