সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তুলে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের ১১ দলীয় জোট ও খেলাফত মজলিশের প্রার্থী এ বি এম সিরাজুল মামুন। সেই সঙ্গে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তিনি।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এ বি এম সিরাজুল মামুন বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সন্ধ্যার পর যখন নির্বাচনের ফলাফল শুরু হলো তখন একটা একটা করে বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল আসা শুরু হলো। পরে সাড়ে ৭টার দিকে আরটিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমাকে বিজয়ী করে ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাই। তবে সেখানে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ১২টা কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করার পর তিনি আর এলেন না। সেখানে রাত ২টা পর্যন্ত আমাদের লোকজন অপেক্ষা করলো। ওই সময় তিনি সেখানে আসেননি। এটা আমাদের কাছে খুব অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। এদিকে আমরা প্রায় ৬১ কেন্দ্রের ভোটের ফলাফলে এগিয়ে ছিলাম। তবে এরপর থেকে আমরা আর ফলাফল পাচ্ছিলাম না, শেষে অনেক বিলম্বিত করে ফল প্রকাশ করা হলো। তবে এই ফলাফলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মানুষের যেই রায় ছিল, সেটার প্রতিফলন ঘটেনি। এ কারণে আমরা পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানিয়েছি।
নির্বাচনে নানা অনিয়মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দিনভর পরিবেশ ভালো দেখা গেলেও কিছু এলাকায় দেওয়াল ঘড়ির এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা প্রদান, ফলাফল গণনার সময় অনেক কেন্দ্রে এজেন্টদের ভোট গণনা কক্ষের বাইরে রাখা, সিসিটিভি ফুটেজের আওতার বাইরে ভোটগণনা করা, বাতিল ভোটকে ধানের শীষের ভোট হিসেবে গণনা করা, রেজাল্ট না লিখেই পোলিং এজেন্টদের থেকে রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর সংগ্রহ করাসহ আমরা নানা অনিয়ম পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দেয়াল ঘড়ি মার্কার প্রার্থীকে বিজয়ী হিসেবে দেখা গেলেও, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার সময় রহস্যজনকভাবে তা পাল্টে দেওয়া হয়েছে। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে, বিজয় নিশ্চিত জেনেও পরিকল্পিতভাবে ফলাফল টেম্পারিং করে বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। জনমতের এই প্রতিফলনকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য শুভ নয়।
আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে এ বি এম সিরাজুল মামুন বলেন, আমরা এই রহস্যজনক ফলাফলের বিষয়ে জেলা নির্বাচন অফিস ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি। আমি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি যে, প্রতিটি কেন্দ্রের সঠিক হিসাব ও পুনরায় স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোট গণনার মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত রায় ফিরিয়ে দেওয়া হোক। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাচ্ছি ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিচ্ছি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ ও জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আমির মাওলানা আব্দুল জাব্বার, এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক শওকত আলী, জামায়াতে ইসলামীর বন্দর থানার আমির ফজলুল হাই জাফরীসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ।








