বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শ্রমিক হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেফতারের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা খাতুন এই আবেদন মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সিদ্ধিরগঞ্জে ইন্টিরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মন্ডল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে গ্রেফতার আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
তিনি আরও বলেন, শুনানির সময় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন অভিযুক্ত সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আওলাদ হোসেন বলেন, আইভী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলে এজাহারকারী তার নাম দিতেন। কিন্তু সেটা করেননি। কারণ আইভী এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংগঠিত সহিংসতার ঘটনায় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই চিটাগাংরোড এলাকায় ডাচ বাংলা ব্যাংকের নিচে আগুনে পুড়ে নিহত হন ইন্টিরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডল। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৩০ জুন কৃষক ওয়াজেদ আলী বাদী হয়ে ইন্টিরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মন্ডলকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এই হত্যা মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীকে শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করা হয়। একদিন পর তাকে শ্যোন অ্যারেস্টে দেখানো হয়।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৯ মে ভোর রাতে শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সেই সঙ্গে গত বছরের নভেম্বর মাসে হাইকোর্ট সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পাঁচ মামলায় জামিন দিয়েছিলেন। এরপর আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়। পরে ১৮ নভেম্বর তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা ও সদর থানায় করা আরও পাঁচ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল। এরপর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে উচ্চ আদালত থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী পাঁচটি মামলায় জামিন পান।
মামলাগুলো হলো- ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, ইয়াছিন হত্যা ও পারভেজ হত্যা মামলায় ও সদর মডেল থানায় করা হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ।









