এমপি হওয়ার পর আপনার সফটওয়্যার মাথাটা কি ধ্বংস হয়ে গেলো, এখনও নির্যাতিত হচ্ছি

গাজীপুর প্রতিনিধি
০২ জুলাই ২০২৬, ২০:২৯আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ২০:২৯

গাজীপুরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হামলা-মামলা ও কারা-নির্যাতনের শিকার বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্মানে এক প্রীতি মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকালে শ্রীপুরের সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারের সভাকক্ষে এ মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ‘শ্রীপুর উপজেলা ও পৌরসভায় কারা নির্যাতিত ঐক্য ফোরামের’ আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে এটি মিলনমঞ্চে পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। 

সংগঠনের সভাপতি আরিফুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের সম্মানে এমন আয়োজন বিরল দৃষ্টান্ত। এ ধরনের উদ্যোগ দলের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গত ১৭ বছরে আমাদের তিন হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে, ৭০০-এর বেশি নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। তাদের ত্যাগ ও অবদানের কারণেই দল আজ আরও সুসংগঠিত। যারা আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তাদের সম্মান ও মূল্যায়ন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন মূল কাজ হলো তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখা। অতীতে জেল খেটেছেন বা নির্যাতন ভোগ করেছেন বলে এখন উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করা যাবে না, দল তা গ্রহণ করবে না। সবাইকে সুশৃঙ্খল ও ভালো আচরণ করতে হবে। নির্যাতিত নেতাকর্মীরা যা চেয়েছেন, তা পেয়েছেন। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, দেশে গণতন্ত্র ফিরেছে, ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। যার ফলে স্বৈরাচারের দোসররা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হামলা-মামলা ও কারা-নির্যাতনের শিকার বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্মানে এক প্রীতি মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

অনুষ্ঠানে এমপিকে উদ্দেশ্য করে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান মোড়ল শামীম বলেন, ‘প্রিয় নেতা, আজকে এখানে কষ্টের সঙ্গে বলতে হয়, যারা দলের দুর্দিনে আপনার পাশে ছিল না আজকে তারা আপনার ডানে-বাঁয়ে বসে অনেক বড় বড় কথা বলছেন। আমার কষ্ট হয়। তাদের লজ্জা থাকা দরকার যে তারা কোথায় ছিলাম দলের দুর্দিনে। আপনি আমাদের নেতা। আপনার বিকল্প কিছু নাই। আপনার কথা শুনবে না, এমন লোক বা এমন নেতা শ্রীপুরে তৈরি হয়নি। যখন আপনাকে কেউ মানে নাই, তখন যেহেতু তাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিই নাই, আর এখন তো আপনি আমাদের সবার নেতা, আমাদেরকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেবে, এটা কী করে কল্পনা করি।’

এমপির উদ্দেশ্যে আক্তারুজ্জামান মোড়ল আরও বলেন, ‘আমি কষ্টের সঙ্গে বলছি মাননীয় নেতা, আপনি একজন ডাক্তার। যখন এমপি ছিলেন না আমি বলেছিলাম আপনার একজন পিএ দরকার। তখন বলেছিলেন, “আমার মাথাটাই কম্পিউটার। যেখানে সব সফটওয়্যার আছে, চিন্তা করো না।” এখন আমি বুঝতে পারছি না, এমপি হওয়ার পর আপনার সফটওয়্যার কি ধ্বংস হয়ে গেলো? এখানে দলের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করার দায়িত্ব তো তারেক জিয়া নেবেন না, করেও দিয়ে যাবেন না, আপনাকেই করতে হবে। সেই কাজটি আপনি দ্রুত শুরু করুন। আমাদের মধ্যে অনেক ধ্বংসাত্মক অবস্থা শুরু হয়ে গেছে। আগে আমরা আওয়ামী লীগ দ্বারা নির্যাতিত হতাম, সমস্যা ছিল না। কিন্তু এখন আমরা আমাদের কর্মী বাহিনী বিএনপি দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছি। এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে, না হলে দল ধ্বংস হয়ে যাবে, ধ্বংসের দিকেই যাবে।’

অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি আরিফুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমার নামে ৫১টি মামলা। অনেকবার জেল খেটেছি। বাড়িতে হামলা হয়েছে কয়েক দফা। অন্য নেতাকর্মীদের অবস্থাও এমন। নির্যাতিত-নিপীড়িত নেতাকর্মীদের নিয়ে আজকের এই আয়োজন। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সবচেয়ে নির্যাতিত ছিল বিএনপি। ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল বিএনপি। সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। আমরা একসঙ্গে ছিলাম, আগামীতেও একসঙ্গে থাকবো।’

অনুষ্ঠানে নির্যাতিত নেতাদের মধ্যে নির্যাতিনের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, বিল্লাল হোসেন, মোসলেম উদ্দিন মৃধা, আইনজীবী আবু জাফর সরকার, আইনজীবী আহসান কবির, আবুল হোসেন প্রধান, রাজীবুল ব্যাপারী, মামুন আকন, আল-আমিন আকন্দ ও মমিনুল কাদের প্রমুখ।

/এএম/ 
সম্পর্কিত
সরকারি বরাদ্দের ১০ মসজিদের ৮টি জামায়াত এমপির নিজ এলাকায়
বিএনপি নেতার এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা, সাংবাদিক নেতা গ্রেফতার
এমপি মনির বক্তব্য ‘ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান’ ছাত্রদল সভাপতির
সর্বশেষ খবর
গ্যোটে, বালজাক ও গীতা : হেসের তিন মহাদেশের পাঠযাত্রা
গ্যোটে, বালজাক ও গীতা : হেসের তিন মহাদেশের পাঠযাত্রা
গরম কমাতে চীনের অভিনব ‘মিস্ট কুলিং’ 
গরম কমাতে চীনের অভিনব ‘মিস্ট কুলিং’ 
এআই ক্যামেরার প্রায় ২ মাস: মামলা দেড় হাজার, সবচেয়ে বেশি কোন অপরাধে
এআই ক্যামেরার প্রায় ২ মাস: মামলা দেড় হাজার, সবচেয়ে বেশি কোন অপরাধে
হাইকোর্টে একদিনে ২৪১১ পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি
হাইকোর্টে একদিনে ২৪১১ পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি
সর্বাধিক পঠিত
৪৫০ কোটির সাত তারকা রেস্টহাউস নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলো সরকার
৪৫০ কোটির সাত তারকা রেস্টহাউস নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলো সরকার
নিজেকে কারাগারে পাঠাতে ইউএনওর কাছে আবেদন, ৫ মাসের কারাদণ্ড
নিজেকে কারাগারে পাঠাতে ইউএনওর কাছে আবেদন, ৫ মাসের কারাদণ্ড
মন্ত্রিত্ব ছাড়ার একমাস পর এলাকায় গিয়ে যা বললেন দীপেন দেওয়ান
মন্ত্রিত্ব ছাড়ার একমাস পর এলাকায় গিয়ে যা বললেন দীপেন দেওয়ান
৫৪ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার ঐকমত্যে সরকার-বিরোধী দল: চিফ হুইপ 
৫৪ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার ঐকমত্যে সরকার-বিরোধী দল: চিফ হুইপ 
অবশেষে খুলছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর 
অবশেষে খুলছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর