নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভা থেকে পাঁচটি সরকারি গাড়ি উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গাড়িগুলোর মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকা গাড়িগুলোর মধ্যে সম্প্রতি দুটি ডাম্প ট্রাক ও একটি পে-লোডার উদ্ধার হয়েছে। তবে এখনও পাওয়া যায়নি তিনটি গাড়ি। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
পৌরসভার গাড়িচালক মোস্তফা ও কামালসহ একটি চক্র গাড়িগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন। সম্প্রতি এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পৌর কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে।
নিখোঁজ গাড়িগুলোর মধ্যে চারটি ডাম্প ট্রাক ও একটি অ্যাম্বুলেন্স। গত ১০ জুলাই বিশেষ অভিযানে শিবপুরের ইটাখোলা এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে দুটি ট্রাক ও একটি পে-লোডার উদ্ধার করা হয়।
নরসিংদীর শিবপুর এলাকার গ্যারেজ মালিক তাইজুল ইসলাম বলেন, আমার এখানে যে পাঁচটা গাড়ি এনেছে, এর মধ্যে তিনটা আমি নিজে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি। আর বাকি দুটো গাড়ির বিল ও চ্যাসিস নম্বর আমার কাছে আছে।
নরসিংদীর মাধবদী এলাকার গ্যারেজ মালিক মনিরুজ্জামান মনু বলেন, আমি জানিয়েছি, আমার এখানে এই গাড়িটা আছে, আপনারা নিয়ে যান। আমার কাছ থেকে গাড়িটা নিয়ে গেছে ৫ আগস্টের পরে।
এখনও দুটি ট্রাক ও একটি অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ না মেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। একজন স্থানীয় বাসিন্দা প্রশ্ন তোলেন, সরকারি গাড়ি কীভাবে চুরি হয়, এর সঙ্গে জড়িত কারা?
মাধবদী পৌরসভার স্টোরকিপার রহিমা বেগম বলেন, আমার কাছে গাড়ি নেই। আমাকে বুঝিয়ে দেয়নি। আমি এখানে স্টেশনারি মালামাল সংরক্ষণ করি। এটা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।
তবে এ ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন অভিযুক্ত কামাল হোসেন। তিনি বলেন, এই সাবজেক্ট আমার না। গার্বেজ ট্রাকের মেইনটেন্যান্স মোস্তফা ভাই করেন। আমি ছিলাম জিপ চালক, মেয়র স্যারের জন্য। এই গাড়িগুলোর বিষয়ে হয়তো মোস্তফা ভাই জানিয়েছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ হয়তো গুরুত্ব দেয়নি। এরকমও হতে পারে। কিন্তু আমি সঠিক জানি না। এখন অভিযোগ অফিস তদন্ত করবে। আমি যদি দোষ করি তাহলে শাস্তি পাবো।
ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের কথা জানান পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার। তিনি বলেন, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটি তাদের মিটিং করেছে। যাদের সাক্ষ্য প্রয়োজন সেগুলো নিয়েছে।
নিখোঁজ গাড়ি দ্রুত উদ্ধার ও অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানান এলাকাবাসী।









